আমার রাজনীতি আপনাদের জন্য : মে দিবসে প্রধানমন্ত্রী

মে দিবসের চেতনা মাথায় রেখেই দেশকে ধীরে ধীরে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ়-প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শ্রমিক ভাইবোনদের এটুকু বলব, আপনারা মে দিবসের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন। ভরসা রাখবেন, আমার রাজনীতি আপনাদের জন্য, আমি আছি আপনাদের সঙ্গে।
সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিলেন, মে দিবসের যে সংগ্রামী চেতনা, সেই চেতনা মাথায় রেখেই দেশকে আমরা ধীরে ধীরে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ হবে। ২১ সালে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হবে, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার থেকে অন্য কারও দরদ বেশি, এটা বিশ্বাস করি না।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য এমনটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শ্রমিকের বাসস্থানের নিশ্চিয়তার জন্য প্রতিটি কারখানায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেক্টরে (শ্রম) কোনোকিছু ঘটলেই অনেকেই প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। তারা শুধু সমালোচনা করতেই অভ্যস্ত। আমরা শুধু রানা প্লাজা বা তাজরিন ফ্যাক্টরিতেই নয়, যেখানেই শ্রমিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে সহায়তা এমন পরিমাণে দেয়া হয়েছে যে, আহত শ্রমিকরা আর গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে কাজ করতে চাইছেন না। তারা গ্রামেই ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী কোনো বিষয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত হতে মানা করে বলেন, আমি নিজেই তো আপনাদের অধিকার নিয়ে দরকষাকষি করি মালিকদের সঙ্গে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতনের জন্য মালিকদের সঙ্গে আমিই শ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেছি।
আইএলও-এর নীতি অনুসরণ করে শ্রমিক আইন এবং নীতিমালা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের কাজ।
শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শ্রমিকদের বেতন যে হারে বাড়িয়েছে, সেই হারে বিশ্বের অন্য কোনও দেশের সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে এসে দেখলাম শ্রমিকরা মাত্র ৮শ থেকে ৯শ টাকা ন্যূনতম মজুরি পেত। তখনই আমরা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা নেই। পরে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। কাজে ঢুকলেই তাদের বেতন প্রথমে ৩ হাজার, পরে ৫ হাজার ৩শ টাকায় আনা হয়েছে। এটা কেউ ভাবতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখনও যেকোনও জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটত। এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলেই আমি ছুটে যেতাম। সবসময় চেষ্টা করেছি শ্রমিকদের পাশে থাকতে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন আমরা বাড়িয়েছি। কারণ যাদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন হবে, তারাও যেন স্বস্তিতে সংসারটা চালাতে পারে সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।
শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ট্রেনিং কাম ডরমেটরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তারা যেন ভালোভাবে বসবাস করতে পারে, কাজের পরিবেশ যেন তৈরি হয়, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিকদের জন্য কাজ করেছে। আমি শ্রমিকদের জন্য কাজ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প যদি না থাকে, কী দিয়ে খাবেন? কী দিয়ে চলবেন? বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানি শ্রমিক রয়েছে, যাদের সুনির্দিষ্ট চাকরি নেই। তাদের কল্যাণের দিকটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের জন্য কল্যাণমুখী কিছু করার পদক্ষেপ নেব।
মালিকের প্রতি শ্রমিকের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে এ সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদেরও সচেতন এবং কারখানাবান্ধব আচরণ করার আহ্বান জানান।