/আ.লীগের সমাবেশে যৌন হয়রানি: পরিচয় পেলেই গ্রেপ্তার

আ.লীগের সমাবেশে যৌন হয়রানি: পরিচয় পেলেই গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়া মিছিল থেকে কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনিবার পর্যন্ত ৭-৮ যুবককে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট। পরিচয় জানার সাথে সাথেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এর আগে, রাজধানীর বাংলামটর এলাকায় যৌন হয়রানির শিকার কলেজছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার রাতে রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর থেকেই পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), মহানগর সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা এবং ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্নভাবে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ঘটনাস্থলের আশপাশের ৬-৭ জন ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীকে।

মহানগর সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ইউনিটের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। খুব শীঘ্র্রই দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানান তিনি।

৭ মার্চ ওই শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির ঘটনার পর তার দেয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর পরই তা ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় সরব হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। অপরাধীদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর তাকে নিয়ে বুধবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল শনাক্ত করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম (সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং) বিভাগের আরেকটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওই তরুণী ফেসবুক পোস্টে যেসব তথ্য দিয়েছেন তার সঙ্গে ফুটেজের অনেকটাই মিল পাওয়া গেছে। তার দেয়া ঘটনার বর্ণনা, সময় ও আশপাশের বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষার্থীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে ওইদিন আরও ৫টি পৃথক ঘটনা নিয়ে আরও ৫ তরুণী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ওইসব ঘটনায়ও অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, চারুকলার সামনের রাস্তায় এ ধরনের একটি ঘটনার খবর চাউর হয়েছিল। আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। তবে এর কোনো সত্যতা পাইনি।

শাহবাগে মানববন্ধন : শনিবার বিকাল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতার্কিকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে তারা নারী নিপীড়নের প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৭ মার্চ উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে একদল নিপীড়ক রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নারীদের যৌন হয়রানি করেছে। তারা নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও নিগ্রহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !