ইমার্জিং টাইগার বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সুফল ভোগ করছে দেশের মানুষ

এশিয়ার অর্থনীতিতে এখন নতুন ইমার্জিং টাইগার বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মূল্যায়নে বাংলাদেশকে এভাবেই অভিষিক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর যে দেশকে অভিহিত করা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে সে দেশের এমন উত্থান রূপকথার ফিনিক্স পাখির ভস্ম থেকে উড়াল দেওয়ার মতোই চমকপ্রদ। মুক্তিযুদ্ধের সাড়ে চার দশক পর বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন নয়, এ দেশের সামনে অপেক্ষা করছে আলোর ঝলক। জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাফল্য দেখাচ্ছে যেসব দেশ, বাংলাদেশের স্থান সে তালিকার ওপরের দিকে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদিক থেকে ভারত বাদে অন্য সব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। পাকিস্তান আমলে সামরিক বাহিনীতে বাঙালি সৈন্যদের সংখ্যা ছিল ১০ শতাংশের সামান্য বেশি। বলা হতো বাঙালিরা অসামরিক জাতি। যুদ্ধবিদ্যায় তারা অনভ্যস্ত। অথচ স্বাধীনতার পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনা সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের ভরসার স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের মানুষ বিদেশি পুরনো পোশাকের দিকে তাকিয়ে থাকত। দেশের সিংহভাগ মানুষের গায়ে পরার মতো কোনো পোশাক ছিল না। সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। ইউরোপ-আমেরিকার মানুষও বাংলাদেশের পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশ ছিল ওষুধের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ বিদেশনির্ভর। সে বাংলাদেশ আজ প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় শতভাগই তৈরি করছে। বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধ। সিরামিক শিল্পে বাংলাদেশ এখন নন্দিত দেশ। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে ছিল মাত্র দুটি কাগজ কল। সে সংখ্যা এখন ৯০টির কাছাকাছি। ৪৫ বছর আগে এ দেশে ছিল মাত্র একটি সিমেন্ট কারখানা। এখন সে সংখ্যা অন্তত ৫০টি। বাংলাদেশ থেকে জাহাজ রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোতে। পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ দাতাসংস্থাগুলোকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের কারণে।