এইচএসসির ফল সুধারায়

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। এবারের পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে কম। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কত শতাংশ পাস করেছে সেটা বড় বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং এই বয়সে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক গাইডলাইন দেওয়া। পাস-ফেল নিয়ে না ভেবে শিক্ষার মান বাড়াতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী পাসের হার কমার তথ্য তুলে ধরে বলেছেন, খাতা সঠিক মূল্যায়ন করার ফলে এটা হয়েছে। পাসের হার কম হওয়া ইতিবাচক মনে করছেন তিনি। আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ১৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে আট লাখ এক হাজার ২৪২ জন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। সব শিক্ষার্থী পাস করেছে, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে এ বছর। অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আমাদের অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের হতাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, জীবনের অনেক পথ এখনো চলার বাকি। একবার হোঁচট খাওয়া মানে জীবন থেমে যাওয়া নয়।

শিক্ষার মান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঠিক গাইডলাইন দিতে না পারলে তারা সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে না। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও এ জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তনের পর শিক্ষার মান আমূল বদলে যাবে—এমন ভাবা হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে এই পদ্ধতির সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যেমন সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি, তেমনি অনেক শিক্ষক এখনো সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত নন বলেই ধারণা করা হয়। যে কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ যেমন গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তেমনি শিক্ষকদের অনেককেই দেখা যায় গাইড বই অনুসরণ করতে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে না। শিক্ষকদের যোগ্য করে তুলতে না পারলে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা যাবে না। শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন সম্ভব হবে না।

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর যে চেষ্টা চলছে, তা আরো জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে এ দেশে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেসব প্রতিষ্ঠান খারাপ ফল করেছে, সেগুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে না। আমরা আশা করি, সেদিকে সরকার দৃষ্টি দেবে।