একটা অন্যায় করেছি: শেখ হাসিনা

একটি ‘অন্যায়’ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একজন নিরপরাধ মানুষকে কারাগারে যেতে দিয়েছেন তিনি।

সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে বুধবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে কারাগারে তার সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মতোই তাকে চার দেয়ালের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তিনিও বের হতে পারেন না।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন একজন সাংবাদিক।

জবাবে এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন বিএনপি নেত্রীকে সরকার গ্রেপ্তার করেনি, আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি একটা অন্যায় কাজ করেছি। বলেন তো অন্যায়টা কী? একটা নিরাপরাধ মানুষ, ফতেমা বেগম…’

‘একটা নিরপরাধ মানুষকেও জেল খাটতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার কারণে যিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কোনো মানবাধিকার সংস্থা একটা টু শব্দ করে না যে বিনা বিচারে, বিনা সাজায়, বিনা কারণে কেন একজন মহিলা জেল খাটবে বলেন?’

এই সুযোগ নজিরবিহীন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার (খালেদা জিয়া) এখন মেইড সার্ভেন্ট লাগবে। আপনি বলেন যে সাজাপ্রাপ্ত কোন আসামিকে কে কোন দেশে মেইড সার্ভেন্ট সাপ্লাই দিয়েছে?’

‘তাদের সে দাবি মেনে নিয়েও আমাদের হোম মিনিস্টার দয়াপরশ হয়ে তাকে তার মেইড সার্ভেন্ট দিয়ে দিয়েছেন।’

‘আমি জানি না মানবাধিকার সংস্থা এত সোচ্চার। তারাও কিন্তু সোচ্চার হয়নি একজন নিরপরাধ মানুষ কেন খামাখা জেল খাটবে?’

‘তারপরও যদি ভালো বেতন দেয়, সেটাও হতো, কত বেতন দেয়, সেটা জিজ্ঞেস করে নিয়েন, আমি আর বলতে চাই না’-বলেন শেখ হাসিনা।

কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সব ধরনের সুযোগ সুবিধাই দেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তার চিকিৎসার ব্যবস্থা, হাসপাতালে এনে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার ওষুধ রাখার জন্য ফ্রিজ লাগবে, সে ফ্রিজের ব্যবস্থাও করে দেয়া হয়েছে। আর কত শুনবেন? বলেন?’

বিএনপি নেত্রীর মামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরি করে সে এখন কারাগারে। ১০ বছরের মধ্যে বিএনপি প্রমাণ করতে পারল না, বড় বড় আইনজীবীরা যে, সে নিরপরাধ। আর চিৎকার করে, আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে।’ ঢাকাটাইমস