/এত ব্যয়ের পরও সড়ক ভাঙাচোরা কেন?

এত ব্যয়ের পরও সড়ক ভাঙাচোরা কেন?

মহাসড়ক হচ্ছে দ্রুতগতির, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ অবকাঠামো। কিন্তু বাংলাদেশের মহাসড়কগুলো সেই ধারণা থেকে যোজন-যোজন পিছিয়ে আছে। কয়েক বছর ধরে সড়ক সম্প্রসারণ ও মেরামতে বিপুল ব্যয় হয়েছে। কিন্তু যানবাহনের গতি বাড়েনি। আবার নিরাপদও হয়নি। আবার এত ব্যয়ের পরও কেন সড়ক ভাঙাচোরা হবে? অর্থাৎ যাত্রী, পরিবহনমালিক এবং দেশ এর পুরো সুফল পাচ্ছে না। এর কারণ, আমাদের মহাসড়ক বিজ্ঞানভিত্তিক নয়, পুরোনো ধাঁচের। উন্নয়ন কার্যক্রম টেকসই নয়।

প্রায় চার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ এই পথের যাত্রা হওয়ার কথা দ্রুতগতির ও নিরবচ্ছিন্ন। কিন্তু তা কি হতে পারছে? আমি বলব, না। কারণ, এই পথের বহু স্থানে মোড় আছে, যেখানে গিয়ে যানবাহনকে থামতে হয়। মহাসড়ক তো ধমনি। এখানে আটকাবে কেন? এসব মোড়ে স্থানীয় যানবাহন যাতে মহাসড়কে না উঠতে পারে, সে জন্য মাটির নিচ দিয়ে বা ওপর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা দরকার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বেহাল জয়দেবপুর অংশের কারণে।

সারা দেশের মহাসড়কে ভাঙাচোরার খবর আসছে। এত বিনিয়োগের পর কেন ভাঙাচোরা হবে? দেশে জাতীয় মহাসড়কের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের কিছু বেশি। সব স্থানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লোকবল, কার্যালয় ও সম্পদ আছে। অথচ সড়কে গর্ত হওয়ার পর তা বড় না হওয়া পর্যন্ত মেরামত হয় না। এই সনাতন পদ্ধতি যানবাহনের আয়ু কমিয়ে দেয়। মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি করে। গর্ত দেখামাত্রই মেরামত হয়ে গেলে অর্থও বেঁচে যায়। মানুষেরও দুর্ভোগ হয় না। ঈদে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিপুল জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। এতে কিছু কিছু স্থানে হয়তো মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান নয়।

ঈদে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুর্ঘটনা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়। ঈদে মানুষ বেশি যাতায়াত করে। যানবাহনের যাত্রা (ট্রিপ) বেড়ে যায়। যানজটে পড়ে গতি কমে গেলে দুর্ঘটনা কম হয়। আবার চালক যখন ফাঁকা পান, পুষিয়ে নেওয়ার জন্য গতি বাড়িয়ে দেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !