/কোরআনের বিধান এবং আধুনিক বিজ্ঞান

কোরআনের বিধান এবং আধুনিক বিজ্ঞান

পবিত্র কোরআন সর্বশেষ আসমানিগ্রন্থ। কোরআনের যাবতীয় শিক্ষা ও বিধান কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য অবশ্যপালনীয়। গোটা মানবসমাজের সমূহ কল্যাণ পবিত্র কোরআনে নিহিত রয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বলতে হয়, কোরআনের বিধিবিধান সর্বকালের মানবসভ্যতার জন্য জরুরি ও উপকারী। সেটা যেমন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চিরসত্য, তেমনি অভিজ্ঞতার আলোকে তা সন্দেহাতীতভাবে সাব্যস্ত এবং আধুনিক বিজ্ঞানের নিত্যনতুন আবিষ্কারের দ্বারা সুপ্রমাণিত। এ জাতীয় বিধান এবং সেই বিধানের পক্ষে আধুনিকযুগের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ছোট্ট একটি দৃষ্টান্ত এখানে পাঠকসমীপে তুলে ধরা হলো।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে চরিত্র ধ্বংসমূলক গানবাজনা করা এবং শোনা হারাম ও কবিরা গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। তা যে কোনো গানই হোক না কেন। তবে বাজনা বা বাদ্যযন্ত্র ছাড়া আল্লাহ তায়ালার গুণাবলি বিষয়ে হামদ, নাত, কাসিদা, গজল ইত্যাদি পাঠ করা ও শোনা জায়েজ। গানবাজনা হারাম হওয়া সম্পর্কিত কোরআনের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর একশ্রেণির লোক আছে, যারা অজ্ঞতাবশত খেলতামাশার বস্তু ক্রয় করে বান্দাকে আল্লাহর পথ থেকে গাফেল করার জন্য।’ (সূরা লোকমান : ৬)। ওই আয়াতের শানে নুজুলে বলা হয়েছে, নজর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদি খরিদ করে এনে তাকে গানবাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ কোরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদের কোরআন শুনিয়ে নামাজ, রোজা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে শুধু কষ্টই কষ্ট। তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা ওই আয়াত নাজিল করেন। (আসবাবুন নুজুল; ওয়াহিদি, পৃ. ১৭৯ এবং তফসিরে কুরতুবি দ্রষ্টব্য)।
এই আয়াত ছাড়াও একাধিক হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) স্বীয় উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করে গেছেন। হাদিসগ্রন্থগুলোয় সেসব বর্ণনা বিশুদ্ধ সনদে বিধৃত হয়েছে। উম্মাহর বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও অনুসৃত সব আলেমই বাদ্যযন্ত্রসংবলিত গানবাজনা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
এবার আসুন আধুনিক বিশ্বের গবেষকরা কর্তৃক পরিচালিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত হই। ব্রিটেনের একটি স্বাস্থ্যসংস্থা বেশ কয়েকজন মিউজিশিয়ানের ওপর গবেষণা জরিপ চালান। সেই জরিপ থেকে তারা আবিষ্কার করেন, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারকারী গায়করা সাধারণ মানুষের তুলনায় তিনগুণ বেশি সংখ্যায় মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাছাড়া আমেরিকার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত ভিন্ন আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা মিউজিক নিয়ে কাজ করে তাদের বেশিরভাগই নিজেদের জীবন নিয়ে বিষণœতায় ভোগে। হতাশা ও দুশ্চিন্তা তাদের ঘিরে ফেলে। অবশেষে শারীরিক ও মানসিক রোগে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আর পশ্চিমা দেশগুলোয় অধিকহারে মানুষের হৃদয়ে অশান্তি ও বিষণœতা সৃষ্টির পেছনে এ বাদ্যযন্ত্র সংবলিত গানবাজনা হলো অন্যতম একটি কারণ। উল্লেখ্য, গবেষকরা ২ হাজার ২১১ জন মিউজিশিয়ানের ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেন। দেখা গেছে, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিগুলোয় কর্মরত প্রচুর মিউজিশিয়ানের জীবন এমন অনেক রোগে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। (দ্যা গার্ডিয়ান : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১০ এবং কনসিকুয়েন্স অব সাউন্ড নেট : ২ নভেম্বর, ২০১৬)।
বর্তমান যুগে গানবাজনা যেন আমাদের অনেকের জীবনের একটি অনিঃশেষ চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গান শুনে না, এমন লোক খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। কচি বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক বুড়ো পর্যন্ত সবাই এ গানবাজনা পছন্দ করে। গানবাজনা আমাদের এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, অবসর পেলেই অনেকে গান শোনায় ব্যস্ত থাকে। ইদানীং দেখা যায়, তরুণ হোক অথবা বয়স্কÑ সবার কানেই হেডফোন। বাসে, ঘাটে, শপিংমলেÑ সর্বত্র প্রায় সব বয়সের মানুষের কানেই শোভা পায় হেডফোন! অথচ ধর্মীয় ও জাগতিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই এর অবৈধতা ও অপকারিতা সবারই জানা থাকার কথা।
গবেষণায় জানা গেছে, যারা দীর্ঘক্ষণ কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে থাকে, তাদের কানে ব্যাকটেরিয়া জমতে থাকে। এ ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে তার শ্রবণশক্তিকে কময়ে দেয় এবং কানের ভেতরে একটি ইষড়পশধমব সৃষ্টি করে। কানের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগক্ষমতা কমিয়ে দেয়, এমনকি ওই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে কানের ত্বকে ক্যান্তার পর্যন্ত হতে পারে।

লেখক : লন্ডনপ্রবাসী আলেম

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !