খালেদাকে অসম্মান করা হচ্ছে না: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে অসম্মান করা হচ্ছে না। একটা মানুষ থাকতে হলে যা কিছু প্রয়োজন তা তাকে কারাগারে দেওয়া হয়েছে। তার মর্যাদা অনেক উপরে। তিনি একটি বড় দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলখানা আরাম-আয়েশের জায়গা নয়। সব সুবিধা তো এখানে চাইলেই পাওয়া যাবে না। জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার আলাপ হয়েছে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুবিধা পাচ্ছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করে তিনি যা চাচ্ছেন, সেটাই তাকে দেওয়া হচ্ছে।

পরিত্যক্ত ভবনে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে –বিএনপির অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই জেলখানা পরিত্যক্ত হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। আর তার থাকার জন্য যে রূপটি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ভালোভাবে বার্নিশ করা হয়েছে।

এসময় অতীতের জেল জীবনের কথা স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কর্ণফুলীতে ছিলাম, সেখানে দেখেছি ডিভিশন পেলে কতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। সেই তুলনায় খালেদা জিয়া কম পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর যখন দুই নেত্রীকে মাইনাস করার করার পরিকল্পনা নিয়ে জেলে রাখা হয়েছিল তখন কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগত সাহায্যকারি দেওয়া হয়নি।

কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্যও তখন কোন ব্যক্তিগত সাহায্যকারি ছিল না। আমি যতটুকু জানি, বেগম জিয়াকে এখন একটা রুম মেরামত করে রাখা হয়েছে। যেটি আগে জেল সুপারের রুম ছিল। আমি রুমটা দেখেছি। কারণ, আগে বন্দি থাকাকালে ওই রুমে আমি এবং তারেক রহমান কোর্টে যাওয়ার আগে এক সঙ্গে বসেছিলাম। সেটিই ডেকোরেশন করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আক্ষরিক অর্থে যেটাকে ডিভিশন বলে, সেটা দেওয়ার বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে হয়তো কিন্তু, এখন যে মর্যাদায় উনি আছেন, তার জন্য যেভাবে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তার খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট। আমার মনে হয়, এসব বিষয়ে ডিভিশন প্রিজনরা যেভাবে সুযোগ পান তা তিনি পাচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সাহায্যকারি থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বিএনপির অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা জেল কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তবে ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু, মওলানা ভাসানীকে কখনও আমি ব্যক্তিগত সাহায্যকারি নিতে দেখিনি। এটার সুযোগ নেই।

এই মামলায় তিন আসামি পলাতক রয়েছেন, তাদের বিষয়ে কাদের বলেন, এত সহজেই তাদের আনা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। তবে চেষ্টা চলছে। ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সময় মত নেওয়া হবে। এটাতো একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার, হঠাৎ করে চাইলেই সম্ভব নয় ফিরিয়ে আনা।

সড়ক ভবনে সাংবাদিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমি সচিবকে বলে দিয়েছি- সাংবাদিকদের সঙ্গে যেন যথাযথ আচরণ করা হয়। আমি সব জানি, আমি অলরেডি নির্দেশ দিয়েছি তারা পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন এর বিষয়টি কতদূর জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি ভিআইপি মানসিকতার সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসা দরকার। এদেশের মানুষের রাজনীতি আমরা করি, জনগণের কথা আগে ভাবতে হবে। আমরা আলাদা সুযোগ-সুবিধা নেয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। আমরা যেহেতু পলিটিক্যাল সরকার। তাই জনগণের বিষয়টি আমাদেরকে আগে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, আলাদ লেন এর বিষয়ে আমার কাছে একটি চিঠি এসেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। এটা মন্ত্রিপরিষদের উত্থাপিত কোনো বিষয় নয়। আমাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে। তবে শুধুমাত্র ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন আমার মনে হয় না এখানে করার কোনো যুক্তি আছে। তবে জরুরি সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স চলার ব্যাপারে চিন্তা করা যেতে পারে। আমাদের যতটুকু সংকুলান আছে এর মধ্যে আমরা কোন ব্যবস্থা করতে পারব বলে মনে হয় না।

রাজনীতিতে ঝুঁকি রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন-মৃত্যুর ভয় করি না। আল্লাহ আমাকে যে দিন মারবেন, সেদিন মরব। এটা নিয়ে ভয় করে লাভ নেই। যে রাজনীতিতে ঝুঁকি নিতে জানে না তার সফলতা আসবে না।

দেখুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে ঝুঁকি নেন। কোনো সময় তাকে বিচলিত হতে দেখেছেন? তিনি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিচলিত হন না- যোগ করেন আওয়ামী লীগের এই শীর্ষনেতা।

পদ্মা সেতুর অগ্রগতি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সেতুমন্ত্রী হিসেবে আমি আশাবাদী। আমরা কাজের বেশকিছু জটিলতা পার হয়ে এসেছি। এভাবে পদ্মা সেতুর কাজ চলতে থাকলে আমাদের টার্গেট অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।