খালেদার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিচারক তার (খালেদা জিয়া) বয়স, সামাজিক মর্যাদা, শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় অপরাধের তুলনায় সাজা কম দিয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন এবং দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপকমিটি।

বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করতেই রায়ের অনুলিপি পাওয়ায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রায়ের কপি দেবেন আদালত। প্রতিটি মামলায় দুটি পক্ষ থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। কিন্তু রায়ের কপি দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ নেই।

তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, রায়ের কপি তো আপনারা পাবেন। কিন্তু এতিমের যে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মেরে দিলেন তা কবে ফেরত দেবেন?

মন্ত্রী বলেন, এই রায়ের পাতার সংখ্যা ৬৩২। দীর্ঘ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি, রায়ের কপি পেতে হলে রায়টা কত বড় তার ওপর নির্ভর করে। রায় লিখতে যে সময়টুকু প্রয়োজন তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সরকারের এখানে কোনো হাত নেই।

আইনমন্ত্রী বিএনপির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি আগেই বুঝতে পেরেছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাঁচার উপায় নেই। তাদের সাজা হবে বুঝতে পেরেই গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনেছে। খালেদা জিয়ার সাজার মধ্য দিয়ে বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

খালেদা জিয়ার মামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, এ মামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরেছেন, এখন বলছেন রাজনৈতিক মামলা। এটি ঠুনকো এক্সকিউজ। এটি ছাড়া তাদের বলার কিছু নেই।’

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী, সাংবাদিক স্বদেশ রায়, মোজাম্মেল বাবু, মঞ্জুরুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম।