গৃহশিক্ষকতার কারণে ক্লাসে অমনোযোগী শিক্ষার্থীরা

গৃহশিক্ষকতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) রিপোর্টে  বলা হয়েছে, ক্লাসে শিক্ষকরা পাঠদান অসম্পন্ন রেখে কোচিং বা গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াচ্ছেন। এতে করে শিক্ষার সঠিক লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। ২০২৭ সালে গৃহশিক্ষকতায় বৈশ্বিক বাজারে ২২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের ২০৫টি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর পরিচালিত এ জরিপটি করা হয়। এবারের প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য হলো- ‘শিক্ষায় জবাবদিহিতা : আমাদের দায়বদ্ধতা পূরণ’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো (বিএনসিইউ) সচিব মনজুর হোসেন, ব্যানবেইসের পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতেরর মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষায় অর্থায়নের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে শিক্ষা কর্ম-রূপরেখার প্রস্তাব হলো- শিক্ষার ব্যয় হবে মোট দেশীয় উত্পাদনের (জিডিপি) ৪ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপি’র ২ শতাংশের নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে পালালে জেল ও অর্থ জরিমানা করা হচ্ছে। স্কুল পালানোর শাস্তি হিসেবে ফ্রান্সে দুই বছর, সিঙ্গাপুরে ১ বছর, দক্ষিণ আফ্রিকায় ছয় মাস, বেলজিয়ামে এক মাসের জেল দেয়া হয়। এছাড়া ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে এ কারণে মোটা অংকের অর্থ জরিমানা গুনতে হয়। অনেক দেশে পারিবারিক শিশু ভাতাও বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ইউনেস্কোর প্রতিবেদনের মাধ্যমে বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয় উঠে এসেছে।