চট্টগ্রামের মেয়র শুনতে পাচ্ছেন কি?

মাননীয় নগরপিতা, আমিও দুটি সন্তানের পিতা। ছোট মেয়েটার গতকাল মাঝরাত থেকে হঠাৎ প্রচুর জ্বর। বমি আর কাশিতে ওর শ্বাস কষ্ট হচ্ছিলো, হসপিটালাইজড করারর মতো অবস্থা।

বাইরে তখন বৃষ্টি হচ্ছে, ভাবলাম চট্টগ্রামের যে অবস্হা তাতে রাস্তায় বেরিয়ে যদি পানিতে আটকা পড়ি, তাহলে বিষম বিপদ হবে, তারচেয়ে ভালো সকাল পর্যন্ত দেখি। সকালে দেখি রাস্তায় পানি বেশি, রোগী নিয়ে বাইরে বেরুনো প্রায় অসম্ভব। তাই ঘরেই কোলে নিয়ে থাকলাম। মেয়েটা আমার বমি করতে করতে প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে।

আপনি যে দলের মনোনীত প্রার্থী, আমি নিজেকে সে দলের আজীবন সমর্থক বলে মনে করি। আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক বঞ্চনার ইতিহাস আমাকে আশান্বিত করেছিল, হয়ত এবার একজন জনমর্মী পিতা পেলো নগরটা।

তাছাড়া আপনার এজেন্ডায় এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আমার আশাটা এখন শহরের রাস্তায় রাস্তায় পানিতে ভাসছে। অনেকে বলে কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্ধ আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চক্রান্তে আপনি সফল হচ্ছেন না।

কিন্তু নেতৃত্ব হচ্ছে প্রতিকুল পরিস্হিতিকে অনুকূলে আনার ক্ষমতা – ব্যক্তিত্বে, সংগ্রামে আর সাহসে। তাছাড়া ড্রেনেজ ইস্যুটা আপনার পূর্ববর্তী মেয়র নির্বাচন থেকে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এখানে ব্যার্থতার কোন সুযোগ নেই।

মহেশ খালের বাঁধ নিয়ে মশকরাটা ভালোই করলেন। আমি কিন্তু মেয়র হওয়ার পর আপনার অর্থ-বিত্তের কোন হিসাব দাবি করছি না। নগর নিয়ে আপনার কোন পরিকল্পনা দাবি করছি না। শুধু দাবি করছি আমি যেন আমার সন্তানকে নিরাপদে র্নিভাবনায় চিকিৎসাস্থলে পর্যন্ত যথাসময়ে পৌঁছাতে পারি। অন্যথায় সভ্য মানুষের মতো পদত্যাগ করুন।

পারলে কিছুদিন পরিবার নিয়ে হালিশহর, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, চকবাজার, বাকলিয়ায় বেরিয়ে আসুন। এই বর্ষায় ওখানে তুমুল মাস্তি হচ্ছে।

এক্সেস রোডে আপনার সারা বছর থাকার অনুরোধ রইল!