জাতীয় পর্যায়ে সেরা শিল্পীদের সূঁতিকাগার পরিত্যক্ত টিনশেড

আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে। প্রতিষ্ঠার পর এখান থেকে বের হওয়া সংগীত শিল্পী ও অভিনয় শিল্পীরা এ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সহ অসংখ্য দেশবরেণ্য গুণীজনের হাত থেকে ‘দেশসেরা’ পুরস্কার লাভ করেছে। অথচ এই কলাকেন্দ্রের শিল্পীরা গানের তালিম নেয় উপজেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত টিনশেডের বারান্দায়।

তবুও কলাকেন্দ্রের দুই জনক রেবা সাহা ও ইকবাল হোসেন দমে যাওয়ার পাত্র নন। তাঁরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে পরিত্যক্ত এই টিনশেডকেই দেশসেরা শিল্পীদের সূঁতিকাগার বানিয়ে রেখেছেন।

এখান থেকে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের হাত থেকে প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করে রজনী। দ্বিতীয় পুরুস্কারটিও লাভ করেছিল এই কলাকেন্দ্রের শিল্পী সিনথিয়া।

আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রের শিল্পী রজনী ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত হামদ-নাত প্রতিযোগীতায় জাতীয়ভাবে প্রথম হয়। এর আগে ২০১৫ সালে আন্তঃপ্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে রজনী দেশাত্মবোধক গানেও জাতীয়ভাবে প্রথম হয়। রজনীর হাতে এ দুটি পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই ইভেন্টে আন্তঃপ্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে একক অভিনয়ে জাতীয়ভাবে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে এই কলাকেন্দ্রের সিনথিয়া। একক অভিনয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয় সে।

এছাড়া ২০১৬ সালে জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগীতায় জাতীয় পর্যায়ে পল্লীগীতিতে প্রথম স্থান অর্জন করে কলাকেন্দ্রের তমা রানী বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তমার হাতে প্রথম পুরস্কারটি তুলে দেন। একই বছর মাধ্যমিক শিক্ষা সপ্তাহেও তমা হামদ-নাতে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করে।

এরপর জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় হামদ-নাতে প্রথম স্থান অধিকার করে কলাকেন্দ্রের শিল্পী অর্পিতা পাল। আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রের জাতীয় পর্যায়ে এত গৌরবজ্জোল অর্জনে মুগ্ধ হয়ে সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক রেবা সাহাকে সম্মামনা প্রদান করেছিলেন।

শুধু দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছে এই শিল্পীরা। কিন্ত তাদের নিজস্ব কোন জায়গা নাই। নিজস্ব কোন ঘর নাই। তালিম চলে টিনশেডের বারান্দা। উপজেলা পরিষদের পরিত্যক্ত এই টিনশেডের তালা ভেঙে বেশ কয়েকবার তাদের হারমোনিয়াম, তবলা চুরি হয়েছে।

কলাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা দুজনের একজন রেবা সাহা ইত্তেফাকের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারের একটু সুনজর এখানকার মেধাবী শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশে আরো সহায়ক হতে পারে। যা কেবল এলাকার নয়, দেশের মুখও উজ্জ্বল করতে পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এমন প্রতিভা আলমডাঙ্গার এ ক্ষুদে শিল্পীদের রয়েছে।’