ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন প্রসঙ্গে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইংল্যান্ডে এই আইন বাংলাদেশের চেয়ে আরও বেশি কঠিন। এ আইন কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়নি। যারা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া অবস্থানে থাকবে। যারা সত্য অনুসন্ধানী তাদের তো কোনো সমস্যা না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকার, দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাদের জন্য এই আইন।

সোমবার (১৫ অক্টোবর ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ আইন সংশোধনে সম্পাদক পরিষদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী এটি নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, বৈঠকে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রসঙ্গটি তোলেন। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তো পাস হয়ে গেছে, এখন আর কী করার আছে?

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক নেতারা এসেছিলেন, আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা আলোচনার কথা বলেছিলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে পাস হয়ে যাওয়ার পর এখন আর কী কথা বলবেন, কী আলোচনা করবেন?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটর কাউন্সিলের মানবন্ধন কর্মসূচি পালনের বিষয়টি শেখ হাসিনাকে জানানো হলে তিনি বলেন, এসব সম্পাদক তো বিভিন্ন সময় ভুল নিউজ ছেপে সেটি তাদের নয়, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নিউজ বলে দুঃখ প্রকাশও করেন। একজন সম্পাদক তো সব সময় আমার বিরুদ্ধে লেখার জন্য প্রস্তুত থাকে। পদ্মাসেতুর অর্থায়ন যাতে না হয় সে জন্য ড. ইউনূসের সঙ্গেও তিনি বিশ্বব্যাংকে গিয়ে কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এত উদ্বেগ কেন? ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ চিন্তা থেকে বিবেচনা করলে হবে না। সমগ্র রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করতে হবে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর বিষয়টি মন্ত্রী পরিষদের আর কোনো সদস্য কথা না বাড়ালে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রসঙ্গটি চাপা পড়ে যায়।

উল্লেখ্য, সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে ধারাগুলো মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছে সম্পাদক পরিষদ। ধারাগুলো সংশোধনের বিষয়ে ৬ দফা দাবি পেশের পর সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সম্পাদকরা।