/ডেভিড ইয়াং: অকৃত্রিম এক বন্ধু

ডেভিড ইয়াং: অকৃত্রিম এক বন্ধু

বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেই যার নামটি সবার আগে মাথায় আসে, তিনি হলেন ডা. ডেভিড ইয়াং। অস্ট্রেলিয়ান এ শল্যবিদ যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঘরের মানুষ হয়ে গেছেন।

বিসিবির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার শুরু মাশরাফি বিন মুর্তজার মাধ্যমে। এরপর অনেকেই মেলবোর্নে গিয়ে তার কাছে অস্ত্রোপচার করিয়ে এসেছেন। যার সব শেষ উদাহরণ পেসার মোহাম্মদ শহীদ।

সেই ডেভিড ইয়াং মঙ্গলবার মিরপুরে এসেছিলেন প্রিয় ক্রিকেটারদের দেখতে। মাশরাফি মুর্তজা, নাঈম ইসলাম, আবুল হাসান রাজু, আলাউদ্দিন বাবুসহ অস্ত্রোপচার করিয়ে আসা কয়েকজন ক্রিকেটারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন।

অস্ত্রোপচার করিয়ে আসা একজন ক্রিকেটারকে কীভাবে দেখভাল করতে হবে সেটা বিসিবির চিকিৎসক-ফিজিওসহ সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের হাতে-কলমে পাঠ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির আমন্ত্রণে তিন দিনের একটি কর্মশালায় অংশ নিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন ডেভিড ইয়াং। কর্মশালা শেষ হয়েছে গত রোববার। তিনি ঢাকা ছাড়বেন বুধবার।

এর মধ্যে মঙ্গলবার বিসিবির চোট পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের একটি সেশন নিয়েছেন তিনি। সেখানেই মাশরাফি-রাজুদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। ডা. ডেভিড ইয়াংয়ের গুণমুগ্ধ ভক্ত মাশরাফি।

ওয়ানডে অধিনায়ক মনে করেন, সাতটি অস্ত্রোপচারের পরও তার ক্রিকেট খেলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এই অস্ট্রেলিয়ানের। বরাবরের মতো মঙ্গলবারও ডেভিড ইয়াংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাশরাফি, ‘আমার ছয়টি অস্ত্রোপচার তার হাত দিয়ে হয়েছে। ওপরে আল্লাহ আছেন, তবে এটা বলতে পারেন, আমি যে এখনও খেলছি তার উছিলা হয়তো তিনি। তিনিই আমার সব কিছুই করেছেন।’

অস্ট্রেলিয়ার এ চিকিৎসক তাদের আশ্রয়স্থল বলেও জানান মাশরাফি, ‘এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, হাঁটুর বিষয়ে অন্য আর কারও কাছে গেলে তেমন আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায় না। শুধু আমি নই, আমাদের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের হাঁটু ও পিঠের চোটের অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি। আমি বলতে পারি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অদৃশ্য একজন বন্ধু তিনি। একজন অকৃত্রিম বন্ধু।’

ডেভিড ইয়াং যে কতটা আন্তরিকতা নিয়ে তাদের চিকিৎসা করেন সেটা বলেন মাশরাফি, ‘চোট পাওয়া অধিকাংশ খেলোয়াড় তার কাছে অস্ত্রোপচার করানোর পর মাঠে ফিরেছে। আমারটা ছিল সবচেয়ে কঠিন। তিনি ছয়বার আমার অস্ত্রোপচার করেছেন। প্রতিবারই খুব জটিল ছিল। একের পর এক অস্ত্রোপচারে খুব জটিল হয়ে পড়েছিল বিষয়গুলো। সবশেষে ২০১১ সালের অস্ত্রোপচারের পর আর কোনো সমস্যা হয়নি। এটা সত্যি, তিনি পেশাদার চিকিৎসক, কিন্তু তিনি তার মন থেকেই আমাদের সার্ভিস দিয়েছেন। এটা অসাধারণ।’

তবে মাশরাফি তার খেলে যাওয়ার জন্য ডেভিড ইয়াংকে সব কৃতিত্ব দিলেও বিনয়ী এ চিকিৎসক কিন্তু তেমনটা মনে করেন না। উল্টো মাশরাফিকেই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি, ‘মাশরাফি ক্রিকেট খেলা এবং তার দেশের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত এক খেলোয়াড়। তবে তার ক্যারিয়ারের পেছনে আমার অবদান কিন্তু খুবই সামান্য। আমি তার চোটের চিকিৎসা করেছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু সে যেভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, নিজের ক্যারিয়ারকে লম্বা করেছে, তাতে আমি মুগ্ধ।’

মাশরাফির টেস্ট খেলতে না পারারও কোনো কারণ দেখেন না ডেভিড ইয়াং, ‘মাশরাফির ব্যাপারে আমি যেটা সবচেয়ে পছন্দ করি, সে একজন খুব ভালো মানুষ। সে দানশীল ও মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ অসাধারণ। সতীর্থদের প্রতিও সে দায়িত্বশীল। মাশরাফির জন্য বাংলাদেশের গর্বিত হওয়া উচিত। সে একজন নেতা। আর টেস্ট দলে সব সময় তার জন্য জায়গা থাকবে। তার টেস্ট খেলা সম্পর্কে আমার উত্তর, হ্যাঁ, সে পারবে।’

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !