দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যান্য সরকারগুলোর মতো কতিপয় মানুষের বা গোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে নয়।
তিনি বলেন, ‘একদা দেশের জনগণ স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছিল। আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচির ওপর ভরসা করে সে স্বপ্ন এখন আবার তারা দেখতে শুরু করেছে। ২০০১ সালের ঝড়ের পর ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করলে সত্যিই মানুষের দিন বদল হতে শুরু করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী এক বছর দেশ কিভাবে চলবে, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কিভাবে হবে তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেটে।’
প্রধানমন্ত্রী আজ জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী একটানা ১০টি বাজেট উপস্থানের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই বাজেটটি এমন একটি চমৎকার বাজেট যে বাজেট নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (অর্থমন্ত্রী) এবার যে বাজেট দিয়েছেন তার শিরোনাম হচ্ছে সমৃদ্ধ আগামীর পথ যাত্রায় বাংলাদেশ। ঠিকই আমরা সমৃদ্ধ আগামীর পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে বাজেটের আকার ৭ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছরে দেশের বাজেট যেখানে ছিল প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। যে বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই বাস্তবায়ন হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে।
বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ এবার ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ কখনও পিছিয়ে থাকতে পারে না।
শেখ হাসিনা তাঁর সরকারকে একটি পরিবার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সরকারের পক্ষে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী ।

দেশের উন্নয়নে তাঁর সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালে সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে আমরা কেমন দেখতে চাই সে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাঁর সরকার মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে এবং সর্বোপরি স্থানীয় জনগণের সমস্যা লাঘবেও সরকার সচেতন রয়েছে।
তাঁর সরকারের সময়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের খন্ডচিত্র তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশে একজনও আর গৃহহীন থাকবে না।
তিনি এদিন সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলে সরকারের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকার পক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং এই বিষয়ে কেবিনেট সচিবের নেতত্বে একটি কমিটি কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী চলমান মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষেও সরকারের অবস্থান ব্যক্ত করেন।
পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত এবং পটুয়াখালী এবং বরিশালেও রেল যোাগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি ব্রিটিশ কোম্পানীর সঙ্গে তাঁর সরকারের আলোচনা চলছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।