দ্বৈত ভোটার হতে সাহায্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এএফআইএস (অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৫ হাজারের মতো দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে।
দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণে সম্প্রতি নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, বরিশাল ও পিরোজপুরের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, দ্বৈত ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের প্রথমটি বহাল রেখে দ্বিতীয়টি বাতিল করার জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে (এনআইডি) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক দুই লাখ ৫ হাজার ভোটারের প্রথমবারের ভোটার বহাল রেখে পরেরটি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত যারা ভোটার হয়েছেন তাদের এনআইডির তথ্য ডাটাবেইজে স্থগিত করা আছে। তবে দ্বৈত ভোটারদের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে মাফ পেয়েছেন।
দেশের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের (রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা) চিঠিতে বলা হয়েছে, ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমকালে কিছু ভোটার দ্বৈত ভোটার হিসেবে এএফআইএস (অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ম্যাচিং এর মাধ্যমে  চিহ্নিত হয়েছে। এসব চিহ্নিত ভোটাররা ভিন্ন ভিন্ন হাতের আঙ্গুলের ছাপ ও ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য আংশিক পরিবর্তন করে একই ব্যক্তিকে দু’বার ভোটার হওয়ার বিষয়ে যিনি বা যারা সহযোগিতা করবেন পরবর্তীতে তা তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে।
সম্প্রতি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় দুই ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে ও তথ্য পরিবর্তন করে দু’বার ভোটার হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি সচিবালয়। ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. আব্দুল হালিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, মো. আবদুল খালেক এবং মো. আবদুল মান্নান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য/মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তথ্য পরিবর্তন করে দু’বার ভোটার হয়েছে। খালেক ও মান্নানের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি এ দু’জনের দ্বৈত ভোটার থেকে প্রথমটি বহাল রেখে দ্বিতীয়টি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে এনআইডিকে চিঠি দিয়েছে ইসি সচিবালয়।
এনআইডি উইংয়ের পরিচালকের (অপারেশন্স) কাছে চিঠিতে বলা হয়, ব্যক্তি দু’জনের প্রথম অন্তর্ভূক্তি বহাল রেখে দ্বিতীয়বারের অন্তর্ভূক্তি বাতিলের ব্যবস্থা নিতে হবে। কমিশন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মামলার বিবরণ ইসি সচিবালয়কে জানাতে বলা হয়। ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী, মিথ্য তথ্যা দিয়ে কেউ ভোটার হলে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।