দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশের শীর্ষে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। ২০০৬ সালে আমাদের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে এটি হ্রাস পেয়ে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অতি দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। আমার গ্রাম আমার শহর, আশ্রায়ণ, আমার বাড়ি আমার খামার-এর মতো আমাদের নিজস্ব ও গ্রামবান্ধব উদ্যোগগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দারিদ্র্য ও অসমতাকে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, শোভন কর্মপরিবেশ এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণ বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন কৌশল। বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সমাজের অনগ্রসর ও অরক্ষিত অংশের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। অর্থ, খাদ্য, কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ও ও সমবায়ের মাধ্যমে এই সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জিডিপি-র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, নারী-পুরুষ সমতা এবং বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির মাইলফলক অর্জনের পর আমরা এখন মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে মনোনিবেশ করেছি। এ লক্ষ্যে ই-শিক্ষা এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। ফলে বিদ্যালয় হতে ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ হতে ১৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০১০ সালে আমরা মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ কর্মসূচি শুরু করি। এ পর্যন্ত প্রায় ২৯৬ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। শুধু ২০১৯ সালেই ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি বই বিতরণ করা হয়। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রকার বৃত্তি দেওয়া হয়। প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ মায়ের কাছে উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে।

ভাষণে দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য মাল্টিলেটারিজম বা বহুপাক্ষিকতাকে উজ্জীবিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে আমাদের যে অঙ্গীকার ও যৌথ আকাঙ্ক্ষা তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে। এটি আমাদের জনগণের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে এবং আমরা টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছি। আমাদের ২১ দফার রাজনৈতিক অঙ্গীকার মূলত জনগণের কল্যাণের নিমিত্ত গৃহীত অঙ্গীকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap