নারকেল: রূপচর্চা থেকে খাবারে

অনলাইন ডেস্ক

ডাব থেকে নারকেল,সব রূপেই তা খেতে ভাল। ডাবের জল তো আবার ঔষদি গুণে ভরপুর। নারকেলও কিছু কম যায় না। নারকেলের খোলা থেকে জল, সব কিছুই কাজে লেগে যায়। বিশেষ করে রূপচর্চা আর চুলের যত্নে নারকেলের বিকল্প মেলা ভার। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক নারকেল আমাদের কি কি কাজে লাগে।

রূপচর্চায় নারকেল:  ত্বকের লাবণ্য বাড়াতে ফেসিয়ালের সময় নারকেল তেলের ব্যবহার করা যায়। এক কাপ গোলাপের পাপড়ি, আধা কাপ গোলাপ জল ও এক কাপ নারকেলের দুধ হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। গোসলের আগে এতে ১৫ মিনিট শরীর ভিজিয়ে রাখলে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। এ ছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ঘরে তৈরি নারকেলের দুধ সরাসরি ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা দিলেও নারকেলের দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকের সেই অংশে নারকেলের দুধের প্রলেপ দিয়ে রাখুন। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে নিলেই পোড়া দাগ থেকে মুক্তি মিলবে। কারও মুখে যদি দাগ দেখা যায়, তাহলে প্রতিদিন ডাব বা নারকেলের পানি দিয়ে মুখ ধুলে প্রাকৃতিকভাবেই দাগ চলে যাবে।

নারকেল তেল ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। নারকেল তেল সোজাসুজি গায়ে না মেখে, ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মিশিয়েও মাখতে পারেন। নারকেল তেল ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। এটি ন্যাচুরাল টোনার হিসেবে কাজ করে। নারকেল তেলে যে টোনিং প্রপার্টি থাকে, তাতে ত্বকের রোমকূপ পরিষ্কার রাখে। এর ফলে ব্রণ হয় না। মেক-আপ তোলার জন্য নারকেল তেল ব্যবহার করুন। এর ফলে, কেমিক্যালের প্রভাব পড়ে না ত্বকে। শীতের সময়ে অল্প একটু নারকেল তেল ঠোঁটে ঘষে নিলে ঠোঁট ফাটবে না।

চুলের যত্নে নারকেল: নারকেল তেল মাথা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। মাথায় ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বক ঠান্ডা থাকে। চুল রুক্ষ হয়ে গেলে নারকেল তেল ব্যবহার করে ঘণ্টা খানেক পর শ্যাম্পু করে নিলে চুল ঝলমলে হয়ে যাবে।

হজমে সাহায্য করে নারকেল: রূপ রুটিনে তো নারকেলের ব্যবহার আছেই, সঙ্গে খাবার হিসেবেও জনপ্রিয় এটি। তরমুজ, কমলালেবু বা সাধারণ লেবুর জলে মিশিয়ে নিন নারকেলের জল। খাবারের পরে এই সরবৎ হজমে সাহায্য করে। নারকেল তেলের রান্না করা খাবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। নারকেল তেল রান্নায় আলাদা একটা ঘ্রাণ আনে।

তবে বাজারে বোতলজাত করা নারকেল তেলে আরও নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে, ফলে এই নারকেল তেল রান্নার জন্য উপযোগী নয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান আলাদা করে রান্নার উপযোগী নারকেল তেল বাজারজাত করে থাকে। এ ছাড়া সরাসরি নারকেল শুকিয়ে তেল করে নিয়েও রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের নারকেল খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে নারকেল: সাধারণ ফ্রুট স্মুদির স্বাদ খানিক বদলে ফেলতে তাতে যোগ করুন নারকেল জল। সঙ্গে কুচিকুচি করে কাটা নারকেলের টুকরো। স্যালাডে অলিভ অয়েলের বদলে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে অবশ্যই নারকেল কুচি। খাবারের পরে মিষ্টিমুখ করার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। ডেজার্টের সঙ্গে নারকেল কোড়া মিশিয়ে দেখতে পারেন। মন্দ লাগবে না।

নারকেলের দুধ

নারকেলের দুধ দিয়ে পোলাও, পিঠা, ইলিশ মাছ, মাংস রান্নার প্রচলন তো বহু পুরোনো। রূপচর্চার জন্যও নারকেলের দুধ দারুণ এক উপকরণ।

ঘরে নারকেলের দুধ তৈরি করবেন যেভাবে

নারকেল ভেঙে কুরিয়ে নিন। এবার ২৫০ গ্রাম কোরানো নারকেলের সঙ্গে দেড় কাপ হালকা গরম পানি মিশিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে মিশ্রণটি দিয়ে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে নিন। পেয়ে যাবেন নারকেলের দুধ। একটা বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করতে পারেন এটি।