নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই ব্যবধান গড়বে: কাদের

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্রলীগকে ফার্স্ট টাইম (প্রথমবার) ভোটারদের সংগঠিত করার দায়িত্ব নিতে বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার মতে আগামী নির্বাচনে এসব তরুণ ভোটাররাই ব্যবধান গড়ে দেবে। 

শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মলনে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে ফার্স্ট টাইম তরুণ ভোটাররা হবে আওয়ামী লীগের বিজয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সেই ফার্স্ট টাইম ভোটারদের সংগঠিত করার কাজ পড়বে ছাত্রলীগের ওপর। এই দায়িত্ব তোমাদের পালন করতে হবে।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে গেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ পাশে ছিলো। মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করার জন্য কাজ করেছি। পাশাপাশি ছাত্রলীগের কর্মীদের সচেতন করার জন্য চেষ্টা করেছি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সভাপতি বলেন, রাজনীতি শেখার পাঠশালা হচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তিনটি কাজ করতে হবে- বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা। এই তিনটি কাজ করলে আপনারা পরাজিত হবেন না। ভালো ছাত্র হয়ে ছাত্রলীগ পরিচালনা করতে হবে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর শোকের মাস আসে। আমরা সেই শোক দিবস সঠিকভাবে পালন করি। আমরা ৯ মাসের মধ্যে ১০৯টি শাখার কমিটি গঠন করি। আমরা প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলায় কমিটি গঠন করেছি। নতুন করে ৭০২টি পৌরসভার কমিটি দেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দেওয়ার পর আমরা কাজ করতে চেয়েছি। জানি না আমরা কতটুকু সফল হয়েছি। আমরা ছাত্রলীগকে গ্রামগঞ্জে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা যে কাজ করেছি তার সব কর্তৃত্ব আপনাদের (ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের)।

এর আগে জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। 

দুপুরের পর থেকেই লাল-সবুজের সাজে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীরা সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন। এছাড়াও মাথায় ব্যান্ড বেঁধে, পাতাকা উড়িয়ে বাদ্যের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সামনে সমবেত হয় সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এবারের সম্মেলনকে ঘিরে আগে থেকেই অন্যরকম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে, গত তিনবারের মতো এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ দুই নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নয় বরং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের শীর্ষ পদের জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ কারণে সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার (১১ মে) সারাদেশ থেকে আসা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। শনিবার (১২ মে) ঘোষণা করা হবে কমিটির নতুন শীর্ষ নেতাদের নাম। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলন। শেখ হাসিনার নির্দেশে এই কমিটিগুলোও কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঘোষণা করা হবে।

এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পছন্দের তালিকায় থেকে নেতা হওয়াকে এবার বেশি গৌরবের মনে করছেন ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশী নেতারা। পদ পেতে চান এমন প্রায় ডজনখানেক নেতার সঙ্গে আলাপ করে তাদের মনের কথা জানা গেছে। তারা বলছেন, শেখ হাসিনার পছন্দে নেতা হওয়া গৌরবের বিষয়। নেত্রীর পছন্দে যারাই নেতা হয়ে আসবেন, তাদের ব্যাপারে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না।

গত ২-৫ মে পর্যন্ত শীর্ষ দুই পদে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। ৩২৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য ১২৫ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২০০ জন ফরম তুলেছেন।