আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার ( বিকাল ৩:৫৭ )
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ৫ই মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
  • ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

পতেঙ্গা ও পারকিকে ঘিরে পর্যটনের নতুন পরিকল্পনা

0

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, পতেঙ্গা ও পারকি সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে পর্যটনের নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পারকিতে বিপিসি ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।
ইউএনডব্লিওটিও’র ‘২৯তমব্যাপী জয়েন্ট কমিশন মিটিং উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হোটেল রেডিসন ব্লুতে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী এ মিটিং। প্রথম অধিবেদন উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। উপস্থিত থাকবেন ইউএনডব্লিওটিও’র মহাসচিব ড. তালেব রিফাই। এতে ক্যাপভুক্ত ২১টি ও সিএসএভুক্ত ৯টি দেশের মন্ত্রী, সচিব, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাসহ তিন শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির চালিকা শক্তি হচ্ছে অর্থনীতি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির মুকুট হচ্ছে পর্যটন। পর্যটনশিল্প ১০৯টি শিল্পকে সরাসরি প্রভাবিত করে। পর্যটনশিল্পে প্রতি আড়াই সেকেন্ডে একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। একজন পর্যটকের আগমনে সেবাখাতে ১১ জন মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়। পরোক্ষভাবে কাজ পান আরও ৩৩ জন। অর্থাৎ এক লাখ পর্যটকের আগমনে ১১ লাখ কর্মসংস্থান যুক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী মানুষের ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার যে স্বপ্ন দেখেন, পর্যটন ক্ষেত্র থেকেই এটা সহজেই করা যেতে পারে। পর্যটন খাত হচ্ছে ধোঁয়াবিহীন শিল্প।
রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, পাহাড়, নদী সাগর ও সমতলবেষ্টিত চট্টগ্রাম বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। পর্যটনশিল্পের বিকাশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যেও নতুন গতি আনবে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বইটি প্রকাশ করে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগ পর্যটনের বৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা। কক্সবাজার ও তিন পার্তব্য জেলায় বাঙালি জাতি সত্তার সাথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আচার অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও।
সংবিধানে বিনোদন ও বিশ্রামের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবিধানের মৌলিক অধিকার পূরণ করবে। তাই বর্তমান সরকার পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটাচ্ছে। দেশকে আবিষ্কারের জোঁক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাও বাংলাদেশের দিকে নজর দিচ্ছে।
হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, পর্যটনের পূর্বশর্ত হচ্ছে নিরাপত্তা, সম্প্রীতি ও পর্যটনশিল্পের আন্তর্জাতিক মানদ-। এর শত্রু হচ্ছে জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িকতা। শেখ হাসিনার সরকার সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ ‘জিরোনীতিতে’ রয়েছে। জাতভেদ, ধর্ম বর্ণ সাম্প্রদায়িকমুক্ত রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যটনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
পর্যটনশিল্পে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তারা এখাতে বিনিয়োগ করলে বিদেশিরাও এগিয়ে আসবে। এতে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে ওআইসির পর্যটন বিষয়ক সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর ইরানে তিবলিজেতে অনুষ্ঠিত মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে পর্যটন খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বরূপ পরবর্তী সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ১৪টি ফাইভ স্টার হোটেলের পাশাপাশি আরও বহু আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। পর্যটনশিল্পে নিরন্তর নতুন যাত্রা যোগ হচ্ছে।
মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকালে কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন, কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ, বিশ্বের সর্বাধুনিক বোয়িং ফ্লাইট পরিচালনা করা। পর্যটনশিল্প নিয়ে বড় কর্মযজ্ঞের মধ্যে প্রবেশ করছি।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘের টুরিজম বিষয়ক সংস্থা ইউএনডব্লিই, ওয়াল্ড ট্রাভেল এ- টুরিজম কাউন্সিল, আইএটা বাংলাদেশ টুরিজম সেক্টরে বেশি বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছে। এসব প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে পর্যটনখাতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০টি। পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার। যা মোট কর্মসংস্থানের ৪ দশমিক এক শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুক। উপস্থিত ছিলেন বিটিবির সিইও ড. নাসির উদ্দিন, বিপিসির চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমরান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

Share.

Comments are closed.