পারভেজ মোশাররফের পাকিস্তানি নাগরিকত্ব বাতিল

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে দেশটির ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি। দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাসির উল মুলকের নির্দেশের পর তার পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়।

আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। ৭ জুন বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এক রায়ে জানায়, শর্তসাপেক্ষে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি পাবেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন মোশাররফ। ফলে একদিকে নাগরিকত্ব না থাকা অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কারণে দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক সঙ্কট। কোর্ট আরও নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে, হাজিরা দিতে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

কিন্তু নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার ফলে তার পাসপোর্ট কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুবাই অবস্থানরত মোশাররফের নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ায় তাকে দেশে ফেরানো সহজ হবে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের কূটনীতিকরা। তবে ভোটের আগে মোশাররফ পাকিস্তানে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছে তার দল এপিএমএল (অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ)। প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

আগামী ১৩ জুন পারভেজকে আদালতে হাজিরা দিতে বলেছে দেশটির শীর্ষ আদালত। ওই সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিমকোর্ট।

এপিএমএল জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিত্রল আসন থেকে ভোটে লড়তে পারেন মোশাররফ। করাচি থেকেও লড়তে পারেন তিনি।
উল্লেখ্য, পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনা প্রধান। ১৯৯৯ সালের ১২ই অক্টোবর তারিখে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতাচ্যুত করে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। পরে ২০০১ সালের ২০শে জুন তারিখে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন।