/প্রস্তাবিত বাজেট উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে দৃঢ় পদযাত্রা : সরকারি দল

প্রস্তাবিত বাজেট উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে দৃঢ় পদযাত্রা : সরকারি দল

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, এ বাজেট উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে দৃঢ় পদযাত্রা।
তারা বলেন, এ বাজেটের আকার বড় হলেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তা বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জন করেছে। গত ৯ বছরে এ ধরনের বড় আকারের বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন তা প্রমাণ করেছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৩টা ৩২ মিনিটে অধিবেশনের শুরুতে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা-উত্তর টেবিলে উপস্থাপন শেষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
গত ৭ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার অষ্টম দিনে আজ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সরকারি দলের আবুল কালাম আজাদ, এইচ এন আশিকুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, স্বপন ভট্টাচার্য্য, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এম এ মালেক, ছানোয়ার হোসেন, হাবিবর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব, নাজিমুদ্দিন আহমেদ, পংকজ নাথ, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, মকবুল আহমেদ, আবু জাহির, নবী নেওয়াজ, সামছুল আলম দুদু, ফরহাদ হোসেন, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আব্দুল মজিদ খান, হাসান ইমাম খান, বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, বেগম সাহারা খাতুন, বেগম আমিনা আহমেদ, এডভোকেট নাভানা আক্তার, বেগম আখতার জাহান, ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন, এড. মো. জিয়াউল হক মৃধা, বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী ও তরিকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল অংশ নেন।
বাজেট বক্তৃতায় অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বড় বাজেট প্রণয়নের সক্ষমতা সরকার অর্জন করেছে। বাজেট প্রণয়ন করতে এখন আর ভিক্ষার ঝুঁলি কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হয় না। প্যারিস কনসোর্টিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। বাজেটের আকৃতি ক্রমেই বাড়ছে, এবারও বেড়েছে। তা নিয়ে অনেক সমালোচনাও আছে। বলা হয় এধরনের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন এবারও বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি আছে, তবে সক্ষমতা ও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। বিগত দুই বছরে ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, গত ৯ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের জন্য বাজেট বরাদ্দ ক্রমশ বৃদ্ধি করে সমাজে অনগ্রসর ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নতি ঘটানো হয়েছে । শেখ হাসিনা সরকারের মূল কথা হচ্ছে কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। এ জন্য তিনি ক্ষমতায় এসে বয়স্কভাতা চালু করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের মন্ত্রী যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব দরিদ্র অসহায় মানুষের টাকা মেরে দিয়ে জামায়াত অনুসারী কয়েকশ’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠকে বিপুল অংকের অনুদান দিয়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০১-’০২ অর্থবছরে বয়স্কভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৫৯ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা। বিধবা ও বয়স্ক ভাতা খাতে ওই সময়ে বরাদ্দ ছিল ২৪ কোটি টাকা এবার হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। অস্বচ্ছল প্রতিবন্দ্বি ভাতা ছিল ১৪ কোটি টাকা এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খাতে ২০১০-১১ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে তা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৯৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি টেকসই হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে বেকার যুবকদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বেকার যুবকদের নিবন্ধন ও কর্মসংস্থান সাপেক্ষে তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু, যুব উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানসহ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ ও অবসরের বয়স ৬৫ বছর করার প্রস্তাব করেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গি ও মাদক বিরোধী অভিযানের মতো দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও পরিচালনা করতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বাজেটকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে দৃঢ় পদযাত্রা উল্লেখ করে বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাবে।
তিনি সবার জন্য বিদ্যুৎ অর্থাৎ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি কৃষিতে ভর্তুকি বহাল রাখার প্রস্তাব করে বাণিজ্যিক কৃষিকে করের আওতায় আনার সময় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। জনগণের সুলভ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলওয়ে নেটওয়ার্ককে আরো আধুনিক ও বিস্তৃত করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় আরো কার্যকরভাবে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, প্যারামেডিকস তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক ১১ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাস্তুচ্যুত এ নাগরিকদের প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাব এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিয়ানমারে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি দেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের কথা তুলে ধরে পূর্বমুখী পররাষ্ট্রনীতি আরো জোরদার করাসহ প্রতিবেশী দেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও এশিয়ার অন্যান্য সব দেশের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !