প্রেস কাউন্সিল পদক পেলেন সমকালের রাজীব নূরসহ ৬ জন

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক পেয়েছেন দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব নূরসহ পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ছয়টি ক্যাটাগরিতে ছয়জনের হাতে পদক, চেক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন কলামনিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী (আজীবন সম্মাননা)। তার পক্ষে পদক নেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা দেওয়া হয় দৈনিক সংবাদকে এবং সংবাদের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন লায়লা কবির ও আলতামাস কবির। পদক প্রাপ্ত বাকিরা হলেন- সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব নূর (গ্রামীণ সাংবাদিকতা), জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজন ভট্টাচার্য (উন্নয়ন সাংবাদিকতা), দৈনিক বরিশাল সময়ের প্রধান প্রতিবেদক মর্জিনা বেগম (নারী সাংবাদিকতা), দৈনিক আমাদের সময়ের আলোকচিত্রী আলামিন লিয়ন (আলোকচিত্র)।

এ সময় গণমাধ্যমকে তথ্যভিত্তিক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘স্বাধীনতা ও যথেচ্ছাচার’ যে এক নয় তা সাংবাদিকদের স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সৎ সাহসই পারে সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষের শীর্ষে নিয়ে যেতে। আপনারা সমালোচনা করবেন। তবে তা যেন তথ্যভিত্তিক হয়। কোনোভাবেই যেন একপেশে না হয়। গঠনমূলক সমালোচনা সরকার পরিচালনা ও জাতিগঠনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

দেশের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে গণমাধ্যমকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, তথ্যের প্রবেশাধিকার এবং জনগণের ক্ষমতায়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারে, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মতামত পরিবেশনের মাধ্যমে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পাঠকদের সত্য ও কল্যাণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে গণমাধ্যম কখনো পিছপা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অসত্য, উস্কানিমূলক কিংবা হলুদ সাংবাদিকতা কখনই জনগণ ও গণতন্ত্রের বন্ধু হতে পারে না। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ করে সংবাদপত্র ও সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য যে নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে তাতে দেশে হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধে সহায়ক হয়েছে। আমি আশা করি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অধিকতর কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘গণমাধ্যম জাতির বিবেক বিনির্মাণ করে, আবার বিবেককে পাহারা দেয়। তবে সাংবাদিকতার নামে যেন অপরাধ ঘটানো না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।’ তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারিকে গণমাধ্যম দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাবটি অনুমোদনের চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেস কাউন্সিল দিবস হিসেবে পালিত হয়। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতারা এ দিনটিকে গণমাধ্যম দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। উত্তরে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ দাবিটি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ উত্থাপন করবেন বলে জানান।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। তাই তার কন্যা শেখ হাসিনার সরকার এমন সাংবাদিক-বান্ধব। শেখ হাসিনা সরকারের সাংবাদিকবান্ধব নীতির কারণে দেশে বহু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, এফএম রেডিও, অনলাইন রেডিও, অনলাইন টেলিভিশন এবং কমিউনিটি রেডিও অনুমোদন পেয়েছে। গণমাধ্যমের এমন বিকাশের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের অনেক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রেস কাউন্সিল পদকের জন্য গঠিত জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৪ সালে সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে তিনি প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট প্রণয়ন করেছিলেন। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন তিনি দেখে যেতে পারেননি। আজ তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেয়েছে। প্রেস কাউন্সিল এদেশের সংবাদপত্র শিল্প ও সাংবাদিকদের উন্নয়নে অব্যাহত রেখেছে তাদের বহুমুখী প্রয়াস। যারই ধারাবাহিকতায় প্রবর্তিত হয়েছে প্রেস কাউন্সিল পদক।’ তিনি প্রথমবারের মতো দেওয়া পদকের প্রচারণা যথেষ্ট হয়নি মন্তব্য করে বলেন, ‘আশা করছি, আগামীবার প্রেস কাউন্সিল আরো বেশি প্রচারণা চালাবে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী সভাপতি এ কে এম রহমতুলল্গাহ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ।