বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে মৃত্যুদণ্ড সংসদে বিল উত্থাপন

বিমান চলাচলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন ঘটালে অথবা বেপরোয়াভাবে এমন কোনো কাজ করলে যাতে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তাহলে এর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন এবং অনধিক পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল উত্থাপিত হয়েছে। ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিল, ২০১৭’ নামে গতকাল বুধবার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যন্ত মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। পরে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিলটি এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি ধরা পড়ায় তা জরুরি অন্যত্র অবতরণ করে।

উত্থাপিত বিলে বিমানের নেভিগেশনে হস্তক্ষেপ করলে অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এয়ার অপারেটর কর্তৃক রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ না করলে অথবা মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের দায়ে অনধিক তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে বিলে। এছাড়া রেকর্ডপত্র উপস্থাপন না করলে অথবা তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি, দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেললে, বিমানে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন করলে, বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘন করলে, বিপজ্জনক পদ্ধতিতে বিমান চালালে, অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিমান বা বস্তু বাজেয়াপ্ত করলে, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা এবং কতিপয় ক্ষেত্রে মামলা দায়েরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ও অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে উত্থাপিত বিলটিতে।

এদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪ রহিত করে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে গতকাল সংসদে ‘বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল, ২০১৭’ পাস হয়েছে। বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।