/বিশ্বক্রিকেটকে কী বার্তা দিলো বাংলাদেশ?

বিশ্বক্রিকেটকে কী বার্তা দিলো বাংলাদেশ?

মাত্র ৪২ রানে অজিদের তিন উইকেট নেই। মনে হতেই পারে- টার্গেটের স্কোরে যদি মুশফিকরা আর একশো রান যোগ করতে পারতো তবে সিরিজের ট্রফিটাও একক দখলেই আসতো। তাতে আক্ষেপ থাকলেও ১৪০ বছর ধরে টেস্ট খেলে আসা ক্রিকেট আভিজাত্যের দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করাটাই বা কম কি সে! যেখানে টাইগারদের সাদা পোশাকের বয়স মাত্র ১৭ বছর। সদ্য শেষ হওয়া সিরিজটি ২০১৫ সালেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সন্দেহের মুখে একাধিকবার তাতে বাধা পড়ে। শেষ পর্যন্ত অজিরা আসলো। আর এসে এটি অন্তত দেখে গেল হোম গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ কতটা কঠিন। তাতে বাংলাদেশ ইস্যুতে দম্ভের চূড়া ভাঙলো অস্ট্রেলিয়ার। বাধ্য হলো সমীহের বাণী শোনাতে, মাটিতে পা পড়লো অজিদের।

চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে সে কথা তো অপকটেই স্বীকার করে গেলেন অজি ক্যাপ্টেন স্টিভেন স্মিথ। বছরখানেক আগেও বাংলাদেশ যেখানে স্বপ্ন দেখতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ ড্র করা কিংবা জয় তুলে নেয়ার সেখানে মিরপুরে অজিদের বিপক্ষে জ্বলজ্বলে একটি জয় সত্যিই তো সোনার হরিণ হাতে পাওয়ার মতো। আর চট্টগ্রামেও একাধিকবার জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে লড়ে হারার মধ্যে থেকে অনুপ্রেরণা নিশ্চয় খুঁজে নেবে টিম বাংলাদেশ।

টাইগারদের বিপক্ষে হেসেখেলে হেলায় জেতার দিন যে ফুরিয়ে গেছে সেটি তো স্মিথের কথাতেও পরিষ্কার। চট্টগ্রাম টেস্ট জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে অজি অধিনায়ক সত্যিটাই স্বীকার করলেন- ‘২-০-তে সিরিজ জিতলে আমাদের জন্য ভালো হতো। তবে এখান থেকে ১-১-এ ড্র করে যেতে পারাটাও খারাপ নয়। প্রথম টেস্টে জিততে না পারাটা হতাশার ছিল। তবে বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। তারা ভালো ক্রিকেট খেলেছে। দারুণ এক সিরিজ ছিল।’

স্মিথের মুখেই যখন ড্র করে তৃপ্তি, তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক কী বলবেন? মুশফিকুর রহিম ড্র সিরিজ থেকেও খুঁজে পাচ্ছেন প্রাপ্তি। তবে একটা আফসোসও আছে তাঁর, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছি, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো করার সুযোগ আমরা হারিয়েছি দ্বিতীয় ইনিংসের কারণে। তবে সব মিলিয়ে ভালো একটা সিরিজ গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ ড্র করা অনেক বড় অর্জন। একটু আক্ষেপও আছে। এই ম্যাচটা আরেকটু ভালো খেললে ফল হয়তো অন্য রকম হতে পারত।’ ব্রিফিং মুশি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই টেস্ট হারায় দ্বিতীয় ইনিংসের চেয়ে প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতাই বেশি দায়ী। সেখানে আমরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলাম। প্রথম দিনে উইকেটটা এমন স্পিন সহায়ক ছিল না যে খেলা যাবে না।’

মুশফিকের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ ড্র করে বিশ্ব ক্রিকেটকেই দেওয়া গেছে বড় এক বার্তা। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির পর বাংলাদেশ এখন টেস্টেও বড় শক্তি হতে যাচ্ছে!

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !