বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও সমৃদ্ধি বজায় রেখেছে বাংলাদেশ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজ প্রায়ই ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বিশ্বে নানা অস্থিরতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমাগত আর্থিক মন্দা সত্ত্বেও গত ১০ বছর ধরে সমৃদ্ধি বজায় রেখেছে। স্পেকটেটর ইনডেক্স ২০১৯ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে মোট ২৬টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ। এ সময়ে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনের ব্যাপ্তি ঘটেছে ১৮৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে আমাদের জিডিপি-র আকার ছিল ১০২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর এটি বেড়ে ৩০২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবারের মত এবারও বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া উন্নয়ন কৌশল হিসেবে মনোনিবেশ করেছি দারিদ্র্য দূরীকরণ, টেকসই প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নের মত বিষয়গুলোতে। গত ১০ বছর ধরে আমরা প্রগতিশীল ও সময় উপযোগী নীতি ও কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছি; যা আমাদের এনে দিয়েছে অসামান্য সাফল্য। আমাদের রফতানি আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৯০৯ ডলার হয়েছে। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।

২০০৫-০৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যে আমাদের বিনিয়োগ জিডিপি-র ২৬ শতাংশ থেকে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ৭০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৯ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

ভাষণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় নাইজেরীয় কূটনীতিক তিজানি মুহাম্মদ-কে অভিনন্দন জানান প্রধামন্ত্রী। একইসঙ্গে গত এক বছর ধরে সাধারণ পরিষদে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দানের জন্য ধন্যবাদ জানান মিজ্‌ মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা গার্সেস-কে। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে তার গতিশীল নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। স্মরণ করেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এই মহান মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি ১৯৭৪ সালে এই পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন: আমি উদ্ধৃত করছি ‘এই দুঃখ-দুর্দশা সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে জাতিসংঘ মানুষের ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষা কেন্দ্রস্থল। নানা অসুবিধা ও বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠার পর সিকি শতাব্দী কালেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মানবজাতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, বস্তুতপক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে তা শুরু হতে যাচ্ছে। তার দর্শন ও চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামী বছর জাতিসংঘে আমরা এ উৎসব উদযাপন করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap