ব্যাটিং বিপর্যয়ে টাইগারদের বড় হার

স্পোর্টস ডেস্ক

শ্রীলংকার ২১১ রানের বিশাল টার্গেটে খেলতে নেমে ১৩৫ রানেই গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। এতে লঙ্কানরা ৭৫ রানে ম্যাচ জেতার পাশাপাশি সিরিজ জেতে ২-০ ব্যবধানে। সিলেটে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল টাইগাররা। কিন্ত ব্যাটিং বিপর্যয় ও নির্বিষ বোলিংয়ে ম্যাচে দাঁড়াতেই পারেনি তামিম-রিয়াদরা। ফলে ত্রিদেশীয় ও টেস্ট সিরিজের পর টি-টোয়েন্টিতেও হাথুরুর শ্রীলংকার কাছে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

২১১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে শূন্যরানে কুশাল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন সৌম্য সরকার। এরপর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শিহান মাদুশানকার বলে থিসারা পেরেরার হাতে ধরা পড়েন মুশফিকুর রহিম। তিন বল খেলে ছয় রান করেছেন তিনি। ওই ওভারেই ধনাঞ্জয়ের বলে কুশাল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন মোহাম্মদ মিথুন। তিন বল খেলে পাঁচ রান করেন তিনি।

দলীয় ৫৯ রানে আমিলা আপোনসোর বলে আকিলা ধনঞ্জয়ার হাতে ধরা পড়েন তামিম ইকবাল। ২৩ বল খেলে ২৯ রান করেন তিনি। দলীয় ৬৮ রানে জেভান মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউতে ফিরেন আরিফুল হক।

দলীয় ১১০ রানে দুর্ভাগ্যক্রমে রান আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩১ বল খেলে ৪১ রান করেন তিনি। দলের স্কোরকার্ডে ৩ রান যোগ হতেই ইসুরু উদানার বলে জ্যাফ্রে ভ্যান্দেরসের হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিনি করেন ২০ রান।

৩ রানের ব্যবধানে টানা দুই ওভারে শেষ ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ১৮তম ওভারে দাশুন শানাকা ১১ রানে উদানার ক্যাচ বানান মেহেদী হাসানকে। পরের ওভারে দানুশকা গুনাথিলাকা নেন শেষ দুটি উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান ৮ রানে বোল্ড হন। আবু জায়েদ রাহী ২ রানে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক দিনেশ চান্ডিমালের হাতে।

শ্রীলংকার হয়ে এই ম্যাচে ৮ জন বোলার বল করেছে। দুটি করে উইকেট নেন গুনাথিলাকা ও মাদুশানকা। একটি করে পেয়েছেন আকিলা, শানাকা, আপোনসো, জীবন ও উদানা।

এর আগে মেন্ডিসের ব্যাটিং ঝড়ে বাংলাদেশে সামনে রানের পাহাড় তুলেছিল শ্রীলঙ্কা।  শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে করেছে ২১০ রান।

দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট করতে নেমেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছিলেন লঙ্কান দুই ওপেনার মেন্ডিস ও গুনাথিলাকা। শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে বড় স্কোরের দিকে চোখ রেখেছে লঙ্কানরা। কিন্তু সৌম্য সরকারের বলে প্রথম ব্রেকথ্রু পায় বাংলাদেশ। দলীয় ৯৮ রানে সৌম্যের ডেলিভারিতেই সাজঘরে ফিরেছে ওপেনার গুনাথালিকা। এরপর মেন্ডিসের সঙ্গী হয়ে ক্রিজে এসেছে থিসারা পেরেরা। এসেই বিস্ফোরিত হতে শুরু করলো পেরেরার ব্যাট। ১৭ বলেই ১ ছয় ও ৩ চারে তুলে নিয়েছেন ৩১ রান। এরপরই বিপিএল মাতানো রাহির জালে পড়লেন পেরেরা। রাহির ডেলিভারিতে সৌম্যের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।

এরপর শ্রীলংকার স্কোরবোর্ডে ১০ রান যোগ হতেই ‘ভয়ঙ্কর’কুশাল মেন্ডিসকে ফেরালেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে মেহেদী হাসানের হাতে ধরা পড়েন কুসল মেন্ডিস। ৪২ বল খেলে ৭০ রান করেন তিনি।

শেষ ওভারে সাইফউদ্দিন ফেরান উপুল থারাঙ্গাকে। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে ৪টি চার আর ১টি ছক্কায় ২৫ রান করেন তিনি। দাসুন শানাকা ১১ বলে ৫টি চার আর ১টি ছক্কায় ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৭৫ রানে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ২১০/৪ (২০ ওভার)

(দানুশকা গুনাথিলাকা ৪২, কুসল মেন্ডিস ৭০, থিসারা পেরেরা ৩১, উপুল থারাঙ্গা ২৫, দাসুন শানাকা ৩০*, দিনেশ চান্দিমাল ২*; আবু জায়েদ রাহি ১/৪৫, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২৮, মেহেদী হাসান ০/২৫, মোস্তাফিজুর রহমান ১/৩৯, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১/৪৬, সৌম্য সরকার ১/২৫)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৩৫ (১৮.৪ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২৯, সৌম্য সরকার ০, মুশফিকুর রহিম ৬, মোহাম্মদ মিথুন ৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪১, আরিফুল হক ২, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২০, মেহেদী হাসান ১১, মোস্তাফিজুর রহমান ৮, আবু জায়েদ রাহি ২, নাজমুল ইসলাম অপু ১*; শিহান মাদুশানকা ২/২৩, আকিলা ধনঞ্জয়া ১/২০, দাসুন শানাকা ১/৫, থিসারা পেরেরা ০/৩৩, আমিলা আপোনসো ১/৩১, জেভান মেন্ডিস ১/৮, ইসুরু উদানা ১/১২, দানুশকা গুনাথিলাকা ২/৩)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: কুশাল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)।

প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: কুশাল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)।