/মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ, গোলাগুলি

মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ, গোলাগুলি

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন বর্ধন বাড়ি এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার আগে এই বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর সেখানে গোলাগুলিরও শব্দ পাওয়া গেছে।

যদিও ওই বাড়িতে থাকা  জঙ্গি আবদুল্লাহ তার সহযোগীদের নিয়ে রাত ৮ টার দিকে আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু রাত ৯ টা পর্যন্ত তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। এরপর তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ঘটনাস্থলের কাছে সংবাদ ব্রিফিং করে আব্দুল্লাহ আত্মসমর্পণে রাজি বলে জানিয়েছিলেন।

ব্রিফিংয়ে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার ছিলো এই ভবনের অন্যান্য নিরপরাধ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দেয়া। আমরা সারা দিনে তাদের সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। সারা দিন আমরা আবদুল্লাহর সঙ্গে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। সেই সময় সে আমাদের কাছে সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা তাকে সময় দিয়েছি। আমরা তার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। একটু আগে সে প্রাথমিকভাবে আত্মসমর্পণের জন্য রাজি হয়েছে। সে বলেছে, প্রথমে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বারান্দায় আসবে। তার কথা অনুযায়ী তারা বারান্দায় এসেছিলো। আমরা তাদের সঙ্গে ইশারায় যোগাযোগ করেছি। পরবর্তীতে সে বলেছে রাত ৮টার মধ্যে এই আত্মসমর্পণ করবে।’

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘সে সময় যদি সে ধ্বংসাত্মক কিছু করার চেষ্টা করে সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের অভিযানকারী দল প্রস্তুত আছে।’

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, তাদের ধারণা ওই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ নারী-শিশুসহ ৭ জন আছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘সোমবার রাতে টাঙ্গাইলে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে দারুস সালামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। বাড়িটির পঞ্চম তলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে।’

বাড়িটির ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি থেকে পুরুষ-নারী-শিশুসহ ৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান বেনজীর আহমেদ। বাড়িটির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

জঙ্গি আস্তানা থেকে আবদুল্লাহর বোন ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান বেনজীর আহমেদ।  র‌্যাবের মহাপরিচালক জানান, তারা আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণ করানোর জন্য ফোনে বারবার যোগাযোগ করছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, তারা আব্দুল্লাহকে আত্মসমর্পণের জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সোমবার দিবাগত রাত ১ টা থেকে দারুস সালামের বর্ধন বাড়ি এলাকার ওই বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা  জানান , বাড়ির ভেতরে আব্দুল্লাহর ২ স্ত্রী, ২ সন্তান থাকার কারণে তাদের ‘মিশন’ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তারা যে ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন সেটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।  ওই ফ্ল্যাটে  শিশু উমর (১১) ও উসামার (২) জন্য মূলত র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন মুফতি মাহমুদ খান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ভেতরে বিপুল পরিমাণ এসিড, পেট্রোল ও ৫০টি আইডি রয়েছে। ‘জঙ্গি’ আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ভবনটিতে বসবাস করছেন। ফ্রিজ, টেলিভিশন মেরামত ও আইপিএস তৈরির পাশাপাশি জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৫ সালে থেকে সে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত বলেও জানান র‌্যাবের ডিজি।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !