/মির্জা ফখরুলকে ধীরে চলার পরামর্শ কাদেরের

মির্জা ফখরুলকে ধীরে চলার পরামর্শ কাদেরের

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মহাসচিব সাহেব, ধীরে, ধীরে, আরও ধীরে। এটা বাংলাদেশ, এটা পাকিস্তান নয়।’

আজ রোববার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এক আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজন করে। শহীদ এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শুরুর আগে পুলিশ সদস্যরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পাকিস্তানে একটা ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক দল, তাদের নেতারা একসঙ্গে জগাই-মাধাই নৃত্য শুরু করে।…বাংলাদেশ যেন পাকিস্তান। এটি বাংলাদেশ, এটি বাংলাদেশ; এটি পাকিস্তান নয়।’

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ নায়কের সঙ্গে খলনায়কের তুলনা করেন? ইতিহাসের মহানায়কের সঙ্গে ফুটনোটে (পাদটীকা) মহানায়কের তুলনা হয় না। নায়কের সঙ্গে খলনায়কের তুলনা হয় না। যাঁরা এটা করছেন, এই দুষ্কর্ম করছেন—তাঁরা ইতিহাসে চালুনির ছিদ্র দিয়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।’

পুলিশ বাহিনীকে ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ করে কাউকে ছাড় না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কাউকে ছাড় দেবেন না। কাউকে না। কোনো ছাড় দেবেন না। যদি আপনারা কোনো সমস্যায় পড়েন, জেনারেল সেক্রেটারি (সাধারণ সম্পাদক) আমাকে জানাবেন। আমি দেখব। কে আইন অমান্য করে, কোন সে ভিআইপি যে উল্টো পথে চলে?’ তিনি বলেন, ‘অনেক ভুয়া এমপি (সংসদ সদস্য) স্টিকার জোগাড় করে এমপি সেজে অ্যালার্ম (সতর্ক সংকেত) বাজাতে বাজাতে উল্টো পথে রাস্তা অতিক্রম করেন। প্লিজ, ডোন্ট অ্যালাউ ইট (দয়া করে এটা করতে দেবেন না)।’ এ সময় তিনি পুলিশ বাহিনীকে শক্ত হয়ে কাজ করতে এবং অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগার না হওয়ার পরামর্শ দেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আমরা তাদের এনে বিচারের রায় অবশ্যই কার্যকর করব।’

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘একটি দেশ, একটি জাতি গঠনে একজনই নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে অনেক নেতা থাকেন, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বেই হয়। কোনো জাতির দুজন জাতির পিতা থাকেন না। ইন্ডিয়ার (ভারত) জাতির পিতা গান্ধী, পাকিস্তানের জাতির পিতা কয়জন? একজন। পৃথিবীর সব দেশে জাতির পিতা একজন থাকে, সে-ই নেতৃত্ব দেয়। এখানে বিতর্ক কারা ছোড়ে, আমি জানি না। এখানে বিতর্কের কোনো কারণ নেই।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী চক্র এখনো বাংলাদেশে আছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ নিয়ে, বিভিন্ন চেহারা নিয়ে তারা আত্মপ্রকাশ করে এবং ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায়। তারা ইসলামের নাম নিয়ে, মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা ঘাতকদের সাহায্য করেছিল, বিভিন্ন জায়গায় চাকরি ব্যবস্থা করেছিল—তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে যখন সবকিছু বঙ্গবন্ধু সামলে নিয়েছিলেন, তখনই ঘাতকেরা তাঁকে হত্যা করে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) কামাল উদ্দিন আহমেদ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি প্রমুখ।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !