আজকের দিন-তারিখ
  • সোমবার ( বিকাল ৩:৫৮ )
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ৫ই মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
  • ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

মিয়ানমারের পাশে চীন ও ভারত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আজ

0

রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে চীন ও ভারত। নানা বিষয়ে এ দুই দেশের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও এ একটি বিষয়ে তাদের এক কাতারে দাঁড়াতে দেখা গেল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, খুব কম ইস্যুতেই চীন ও ভারতকে একপক্ষে দেখা যায়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকের আগে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আজ (বুধবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকের প্রাক্কালে চীন আবারও মিয়ানমারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানাল।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছে। সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান রাখাইনে যা ঘটছে, তাকে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরই রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক হতে যাচ্ছে। জানা যায়, ব্রিটেন এবং সুইডেনের অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্তু ওই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের যে কোনো একটি দেশ যদি কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সেটি আটকে যায়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠকে এটাই ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, চীন এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমার সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থাকে শতভাগ সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার চীন আবারও বলেছে, তারা ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ রক্ষায় মিয়ানমার সরকারের পাশে আছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার তাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যে চেষ্টা করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তার পাশে থাকা।’ বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিয়ানমারের পক্ষে চীনের এ বিবৃতির কারণ হলো নিরাপত্তা পরিষদের কালকের বৈঠকে মিয়ানমারের নিন্দা করে কোনো প্রস্তাব যাতে আনা না হয়। রাশিয়ার অবস্থানও মিয়ানমারের পক্ষে বলে মনে করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব যদি ভোটাভুটিতে দেয়া হয়, তাহলে রাশিয়া তাতে কতটা সমর্থন দেবে, সেটা নিয়ে সংশয় আছে। জাতিসংঘের কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো মাথা গলাক, সেটা চীন চায় না।

নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য অবশ্য রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপারে তাদের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সহিংসতার মুখে যেভাবে রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায়, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে বেসামরিক মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না। প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা পরিষদে গত সপ্তাহে আরেকটি বৈঠকেও চীন মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এর আগে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ যাতে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে না পারে, সেজন্য তারা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীন মিয়ানমারের পাশে দাঁড়াবে না এমনটা ভাবার আসলে তেমন কোনো কারণ নেই। ব্যতিক্রম কিছু হয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। সম্প্রতি মিয়ানমার সমর্থন পেয়েছে ভারতেরও। দেশটিতে সফরে গিয়ে দেশটির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের সমালোচনায় জাতিসংঘ : রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার হুমকির বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ভারতের এ সমালোচনা করে। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ-আল হুসেইন এ সমালোচনা করেন। মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে। জেইদ রাদ-আল হুসেইন বলেন, প্রথাগত আইন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ভারত সমষ্টিগতভাবে রোহিঙ্গাদের বহিষ্কার করতে পারে না। নির্যাতনের শঙ্কা আছে বা গুরুতর সহিংস এলাকায় তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারে না। এছাড়া গোরক্ষার নামে ভারতে চলা তৎপরতা ও সম্প্রতি ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুন হওয়ার বিষয়েও নয়াদিল্লি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সমালোচনার মুখে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বেশ ক’টি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। এরপরই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। এতে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইনে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এ দমনপীড়ন চলছিল, তখনই মিয়ানমার সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকা-কে সমর্থন জানান।

Share.

Comments are closed.