/মোবাইল ফোনে ফোরজি পরীক্ষা চালিয়েছে রবি

মোবাইল ফোনে ফোরজি পরীক্ষা চালিয়েছে রবি

চতুর্থ প্রজন্ম (ফোরজি) বা লং টার্ম ইভোল্যুয়েশন (এলটিই) সেবা প্রদানের প্রস্তুতি গ্রহণের পদক্ষেপ হিসেবে প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও এরিকসন। মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটে ১৮০০ মেগাহার্জ ও ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের সমন্বয়ে এ পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে।
হাইডেফিনেশন (এইচডি) টিভি ও ভিডিও কনফারেন্সিং’র মতো ব্রডব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন সেবাগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে ফোরজি সেবা কী ভূমিকা রাখতে পারে সে দিকটি মাথায় রেখেই এই প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে। এসময় মোবাইল ব্রডব্যান্ড ডাউনলোড স্পিডের গতি রেকর্ড করা হয় ৯০ এমবিপিএস-এর বেশি।
– বিজ্ঞাপন –
পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে রেডিও আরআরইউএস ১২’র সহযোগে সর্বাধুনিক এরিকসন এলটিই ১৬বি সল্যুশন এবং বেসব্যান্ড ৫২১৬। একজন মোবাইল ফোন গ্রাহক কীভাবে ৯০ এমবিপিএস বা এরও বেশি উচ্চগতির ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারেন এ পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ৩০ এপ্রিল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রবি আজিয়াটা লিমিটেড’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফোরজি বা এলটিই প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য উপযোগী স্মার্টফোন ব্যবহারের হার কম থাকার মতো কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের উচ্চগতির জন্য গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে আমরা সাধুবাদ জানাই যা এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব। তবে ফোরজি প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য সরকার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যে কর্মকাঠামোর প্রস্তাব করেছে তা এই ব্যবসা প্রসারের জন্য অনুকূল নয়। কিন্তু গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরা এ প্রযুক্তি চালু করতে আগ্রহী।’
তিনি আরও বলেন, ‘রবি নেটওয়ার্কে ফোরজি সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আমাদের সে আন্তরিকতারই প্রতিফলন। তাই ফোরজি প্রযুক্তির ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে সরকার অনুগ্রহ করে লাইসেন্সের কর্মকাঠামো পরিবর্তন করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’ শিগগিরই দেশের অন্যান্য শহরে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে এরিকসন বাংলাদেশের প্রধান রাজেন্দ্র পানগ্রেকর বলেন, ‘এ পরীক্ষা এলটিই যুগে রবি ও এরিকসনের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদ্বারীত্বের প্রতিফলন। আমরা আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এলটিই সেবা প্রদানে রবি’র অগ্রযাত্রার সহযোগী, যার ফলে তারা আরো মানসম্মত ও অত্যাধুনিক গ্রাহকসেবা প্রদান করতে পারবে।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেয়ানিয়া অঞ্চলের ওপর ২০১৬ সালের জুনে প্রকাশিত এরিকসন মোবিলিটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্মার্টফোনের গ্রাহক সংখ্যা ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাবে। এর ফলে উচ্চ গতির মোবাইল ডাউনলোড, আপলোড ও বিভিন্ন হাই-ব্যান্ডউইথ অ্যাপ্লিকেশনের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকবে যা বর্তমান মোবাইল ব্রডব্যান্ড স্পিড দিয়ে সম্ভব নয়।
উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি এলটিই প্রযুক্তি মেশিন টু মেশিন (এমটুএম) অ্যাপ্লিকেশন ও ক্লাউড-ভিত্তিক সমৃদ্ধ মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনের প্রসার ঘটাবে। এছাড়া এটি ব্যবসায়িকদের জন্যও সহায়ক হবে। কারণ এর মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যান্ডউইথের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ এলটিই প্রযুক্তি’র উচ্চ ব্যবহারকারী সবগুলো দেশে এরিকসন তাদের সেবা প্রদান করছে। বিশ্বজুড়ে এলটিই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী শীর্ষ ১০টি এলটিই অপারেটরেরই এরিকসন ব্যবহারকার করছে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !