যুক্তরাজ্যজুড়ে সাড়ে ১২ হাজার উপমহাদেশীয় রেস্টুরেন্ট

উপমহাদেশীয় প্রথার সাথে ব্রিটিশ রন্ধনপ্রণালীর সংমিশ্রণে তৈরি হয় ‘ব্রিটিশ কারি।’ কয়েক যুগ ধরে অভিবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে এই শিল্প গড়ে তুলেছেন নিজ নিজ উদ্যোগে। শুধু গড়েই তোলেননি, উদ্যোক্তারা কারি’কে এরইমধ্যে পৌঁছে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান খাবার  তালিকায়। প্রতিদিন বাড়ছে এই শিল্পের পরিধি। কারি শিল্প বিলেতে বাংলাদেশীদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। এ শিল্প শুধু একটি ব্যবসা নয়, একই সাথে বিলেতে বাংলাদেশীদের পরিচয়ও।
গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প ব্রিটেনের অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।জনপ্রিয় ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী যার বাজারমূল্য ৪ বিলিয়ন পাউন্ডেরও (৪০০ কোটি পাউন্ড) বেশী। প্রতিবছর এই কারি নিয়ে ব্রিটেনে আয়োজন করা হয় জমকালো উৎসব। দেয়া হয় পুরস্কারও। এবছরও বিশ্বে রন্ধন শিল্পের অস্কার খ্যাত সবচেয়ে বড় উৎসব ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস’২০১৮ এর বর্ণাঢ্য আসর বসছে আগামী ২৬ নভেম্বর। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা এবং লন্ডন সময় সন্ধ্যা ৬টায় সেন্ট্রাল লন্ডনের বাটারসি এভুলিশন হলে এই বর্ণাঢ্য উৎসবে ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন লুইস, যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ক্রিস গ্রেলিংসহ শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‌‌যুক্তরাজ্যের সাড়ে ১২ হাজার রেস্টুরেন্টের মধ্য থেকে সেরাদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।
গত ১৪ বছর ধরে এই উৎসবের আয়োজক এনাম আলী এমবিই জানান, অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে এবারের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটিকে আরও বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য আবহে সাজানো হচ্ছে। চমক হিসেবে থাকছে যুক্তরাজ্যের বিশেষ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিসহ বিশ্বের নামকরা তারকাদের অংশগ্রহণ ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা। এই উৎসবটি কাভার করতে উপস্থিত থাকবে বিবিসি, স্কাই, আইটিভি, আইটিএন, এনডিটিভি, জিও, এনটিভি সহ বিশ্বের প্রায় ৭০টি টিভি চ্যানেল। অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িতরা ছাড়াও ব্রিটিশ মন্ত্রী, মেয়রসহ দেশ-বিদেশের দুই হাজারের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন।
চৌদ্দ বছর বয়সী অভিজাত এই আসরে নিয়মিতই অতিথি হয়ে আসেন খোদ বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীরা। ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের নিয়মিত অতিথি ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। একাধিকবার এসেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং সাবেক মেয়র বরিস জনসনের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পাশাপাশি লিজি কান্ডি, ক্রিস ট্যারেন্ট, ডেভিড সিম্যানের মতো তারকাদের উপস্থিতিও ছিল বরাবরই।
বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের অনুকরণে কারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত সফল ও নিবেদিত প্রাণ মানুষদের পুরস্কৃত করার এই ধারা এখন চালু হয়েছে ব্রিটেনসহ বিশ্বের নানা দেশেও। প্রতিবছর ব্রিটেনের সেরা রেস্টুরেন্টগুলোকে ১২টি বিভাগে পুরস্কৃত করা হয় ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে। প্রায় ৪ ঘণ্টার এ আসরে থাকবে ব্রিটিশ ও এশিয়ান নানান পরিবেশনা।
জানা যায়, কারি শিল্পে অবদানের জন্য ২০০৯ সালে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেওয়া এমবিই (মোস্ট এক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাবপ্রাপ্ত এনাম আলী ২০০৫ সালে ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করেন। তিনি জানান, লন্ডনের ‘কারি রেস্টুরেন্ট’ হিসেবে পরিচিত অধিকাংশ উপমহাদেশীয় খাদ্যের রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মীরা বাংলাদেশি।
এনাম আলী, এমবিই বলেন,আমি যখন এই অ্যাওয়ার্ডস প্রবর্তন করি তখন যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পে বেশ দুঃসময় যাচ্ছিল। বাংলাদেশ থেকে রেস্টুরেন্টগুলোর জন্য জনবল আনা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। ফলে ইমেজ সংকটে পড়েছিলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। তখন আমার মনে হল এই শিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য এমন একটি গ্ল্যামারাস প্লাটফর্ম তৈরি করা দরকার, যেখানে থেকে যুক্তরাজ্যের মূলধারার অর্থনীতি-রাজনীতি ও মিডিয়ার সঙ্গে একটা সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব। যে সেতুবন্ধনের মধ্য দিয়ে আমরা কারি শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং বিস্তারের জন্য কাজ করতে পারব। কথা বলতে পারব প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধা-অসুবিধা-সফলতা-বিফলতা নিয়ে। তিনি বলেন,কারি শিল্প বিলেতে বাংলাদেশীদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড।এ শিল্প শুধু একটি ব্যবসা নয়, একই সাথে বিলেতে বাংলাদেশীদের পরিচয়ও।