/যে কারণে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন এই বিএনপি নেতা

যে কারণে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন এই বিএনপি নেতা

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আলি করিমের একটি ভিডিও বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে এমন অভিমত ব্যক্ত করে তিনি খুব শিগগিরই দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি করবেন না বলে ভিডিওটিতে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসএম জাহিরুল আলম নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক একাউন্টে মাসুদ নামে এক যুবকের সহায়তায় মাগুরা জেলা বিএনপির বর্ষীয়ান এই নেতা স্বেচ্ছায় ভিডিও বক্তব্যটি আপলোড করেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় প্রধান নেত্রী জেলখানায় অন্তরীণ অবস্থায় বর্ষীয়ান রাজনৈতিক মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আলি করিমের এমন ভিডিও বক্তব্যে জেলার সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দারুণ হতাশার সৃষ্টি করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর সৈয়দ আলি করিমকে আহ্বায়ক করে মাগুরা জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হওয়ার পর দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও এখন অবধি সেটি করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে জেলা সম্মেলন করার জন্য জেলার চারটি উপজেলা কমিটি গঠিত হলেও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জিয়া অরফানেজ মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কাজী সালিমুল হক কামালের মামলাটিসহ নানা কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ওই মামলায় আদালতের রায়ে দলীয় নেত্রী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল কামাল জেলে থাকা অবস্থায় জেলা বিএনপির আহ্বায়কের এমন ভিডিও বক্তব্যকে দলের অনেকেই মস্তিষ্ক বিকৃতি ও অসুস্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলি করিমের এই ভিডিও বক্তব্য উপস্থাপনের বিষয়টিকে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি  বলে উল্লেখ করেছেন।

কবির মুরাদ বলেন, আলি করিম দলের একজন পরীক্ষিত নেতা। অনেক বয়স হয়েছে তার। তাছাড়াও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিয়মিত পুলিশি হয়রানির কারণে হয়তো তিনি লোড নিতে পারেননি। যে কারণেই এমনটি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপিত ভিডিও বার্তার বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আলি করিম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী বিশেষ করে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন জনগণের বিরুদ্ধে নিজেদের ন্যস্ত করেছে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে যেমন একতা নেই তেমনি পুলিশ প্রশাসনের ভয়েও তারা তটস্থ। যে কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনেও ভীতসন্ত্রস্ত দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। বিধায় দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর ক্ষোভ থেকে এমন ভিডিও বার্তা উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে রাজনীতি না করার ঘোষণাটি কার্যকর অর্থে উচ্চারণ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !