রাজধানীতে পুলিশের তল্লাশি জোরদার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথসহ সর্বত্র চলছে তল্লাশি। সতর্কতা হিসেবে ইতোমধ্যে রাজধানীতে ৮ ফেব্রুয়ারি সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে গ্রেফতার অভিযান। বাদ যাচ্ছে না সন্দেহভাজনরা। বাদ নেই জীবন-জীবিকার সন্ধানে কিংবা প্রয়োজনে ঢাকায় আসা সাধারণ মানুষও!

খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ঢাকায় প্রবেশের সবগুলো পথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও। বাড়ানো হয়েছে টহল।

পুলিশ বলছে, সরকার উৎখাত ও নাশকতার সতর্কতা হিসেবে রাজধানীতে প্রবেশের পথগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। হয়রানি নয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য পুলিশের।

তবে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, অপরাধীদের ধরতে গিয়ে সাধারণদের হয়রানি করা হচ্ছে।

বিএনপি বলছে, অপরাধী ধরার নামে মামলার আসামি ধরার কথা বলে বিএনপিকে নেতাকর্মী শূন্য করার কৌশল নিয়েছে পুলিশ। চলছে গ্রেফতার-বাণিজ্য।

পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে গত বৃহস্পতিবার রাজারবাগে এক অনুষ্ঠানে বলেন, জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। এরপরই ঢাকার কয়েকটি প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরার চেকপোস্টগুলোতে দেখা যায় পুলিশের সতর্ক উপস্থিতি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার সাতটি প্রবেশমুখে ১৩টি তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা যায়, বাস, পিকাপ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছেন না ব্যাগ কিংবা পোটলাধারী পথচারীরাও।

শুধু চেকপোস্টগুলোতে নয়, রাজধানীর ভেতরের স্থায়ী তল্লাশি চৌকিগুলোতেও চলছে তল্লাশি। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার পলওয়েল মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, চেকপোস্টে পুলিশের কড়া নজরদারি। বাস থামিয়ে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।

চেকপোস্টের দায়িত্বরত উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন মিয়া জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চেকপোস্টে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা সতর্কাবস্থায় রয়েছেন। সন্দেহভাজনদের মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাগ তল্লাশি, বাস-প্রাইভেটকারসহ যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর প্রবেশমুখ গাবতলীর পর্বত সিমেনা হলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিতে জনবল বাড়ানো হয়েছে। অস্ত্রহাতে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও চলছে ব্যাপক তল্লাশি। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, চিটাগাং রোড ও সাইনবোর্ড এলাকায় নাশকতার যে কোনো চেষ্টা এড়াতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলপথে ও নৌপথে চলছে তল্লাশি। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কমলাপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসিন ফারুক মজুমদার জানান, ঢাকার ভেতরকার প্রত্যেকটি স্টেশনে যাত্রী ওঠার সময় ও নামার সময় গেটে তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নৌ পুলিশের ঢাকা জোনের সদরঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, ২ দিন আগ থেকে এখানে নজরদারি, তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবলকে মাঠে রাখা হয়েছে। নাশকতার উদ্দেশ্যে, বিস্ফোরক নিয়ে কেউ যাতে নৌপথে ঢাকায় ঢুকতে না পারে সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি আগে। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনমনে স্বস্তি। নিরাপত্তার কথা বলে যদি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা হয় কিংবা মানুষ ঢাকায় এসে হয়রানির শিকার হওয়া কাম্য নয়। ইতোমধ্যে গ্রেফতার বাণিজ্য ও আটক আতঙ্কের অভিযোগ আসছে। পুলিশ দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ঢাকায় প্রবেশের পথগুলোতে সবসময়ই চেকপোস্ট থাকে, তল্লাশিও চলে। নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনে কখনো কখনো কড়াকড়ি কিংবা বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হয়। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেটাই করছি।’