রায়ে সন্তুষ্ট বিউটি, মিডিয়াকে দুষলেন নুর হোসেনের ভাই

সাত খুন মামলায় হাইকোর্টেও নুর হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় সন্তোষ্ট প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা হোসেন বিউটি। অপরদিকে নুর হোসেনের শাস্তির কারণ হিসেবে মিডিয়াকে দোষ দিলেন তার ভাই নূর উদ্দিন।

তিনি বলেন, তার ভাইয়ের বর্তমান পরিণতির জন্য মিডিয়া দায়ী।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর সেলিনা হোসেন বিউটি সাংবাদিকদের বলেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। আপিল বিভাগেও এ রায় বহাল থাকবে আশা করি। এই খুনিদের রায় দ্রুত কার্যকরের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বলেও তিনি মনে করেন। দ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সারা দেশের জনগণ, ও গণমাধ্যম এই যুদ্ধের শুরু থেকে পাশে ছিলেন। তাদের এই ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারবো না। আগামীতেও গণমাধ্যম কর্মীরা আমার পাশে থাকবে।

অপরদিকে আসামি নুর হোসেনের ভাই নূর উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে মিডিয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে।’

তিনি বলেন, মিডিয়ার চাপে সাত খুন মামলা তাড়াতাড়ি এগিয়েছে। এ কারণে তারা ঠিকমতো প্রস্তুতিও নিতে পারেননি। তারা নিম্ন আদালতে আইনজীবী দেওয়ার আগেই বিচার শুরু হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ তোলেন। নিহত নজরুলের স্ত্রী, শশুড়সহ আসামিদের আত্মীয়রা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ১১জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকী ৯জনের সাজাও বহাল রেখেছেন। কোনো আসামি এ মামলায় খালাস পায়নি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী  লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‍্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আরিফ হোসেন, র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্নেন্দু বালা, সৈনিক আব্দুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সৈনিক আল আমিন।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে যাদের যাবজ্জীবন হয়েছে তারা হলেন- সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, নুর হোসেনের সহযোগী মুর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু অরফে মিজান, মো. রহম আলী, মো. আবুল বাসার, সেলিম, মো. সানাউল্লাহ অরফে সানা, ম্যানেজার শাহজাহান, জামাল উদ্দিন।