/রেকর্ড রান করেও পারলো না বাংলাদেশ

রেকর্ড রান করেও পারলো না বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও টেস্ট সিরিজের পর টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচেও হারতে হল বাংলাদেশকে। দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও লঙ্কানদের বিপক্ষে রেকর্ড ১৯৪ রান করেও হার এড়াতে পারেনি টাইগাররা। লঙ্কানরা মাত্র ১৬.৪ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে। এতে বাংলাদেশ হেরেছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে। এই জয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল শ্রীলংকা। সিলেটে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে বড় পুঁজি পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ১৯৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। আর এতে করেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ সালের ১৮ জুলাই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্টে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করেছিল টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। চোট পাওয়া সাকিব আল হাসানের বদলে শ্রীলংকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দিচ্ছেন তিনি।

উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন সৌম্য ও জাকির হোসেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিষেকে শুরুটা ভালো হয়নি জাকির হাসানের। দলীয় ৪৮ রানে গুনাথিলাকার ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ১০ রানেই সাজঘরে ফিরতে হয় জাকিরকে। এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আরো দ্রতগতিতে রান তুলতে থাকে সৌম্য।  ৩০ বলে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন এ ওপেনার। কিন্তু ৫১ রান করেই কুশল মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফিরে যান সৌম্য।

সৌম্যের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে নেমেছিলেন তরুণ উদীয়মান ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন। কিন্তু অভিষেকে ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়াতে পারলেন না তিনি। দ্বিতীয় বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শূণ্য রানে।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়েছে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে দুই জনে গড়েছেন ৭৩ রানের জুটি। দলীয় ১৭৩ রানে উদানার বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। এতে ৩১ বলে ৪৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন রিয়াদ।বাংলাদেশ ইনিংসে সৌম্য সরকারের পর ব্যক্তিগত অর্ধশত পূরণ করলেন মুশফিকুর রহিম। ৩৭ বল খেলে হাফ সেঞ্চুরি করেন মুশফিক।টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের এটি দ্বিতীয় অর্ধশত।

এরপর শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ১ রান করেই পেরেরার শিকার হয়ে ফিরেছেন সাব্বির।এতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৯৩ রান।

শ্রীলংকার হয়ে জেভান মেন্ডিস নেন দুই উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন পেরেরা, উদানা ও গুনাথিলাকা।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ১৯৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওপেনার দানুসকা গুনাথিলাকাকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু। সাজঘরে ফেরার আগে এই ওপেনার ৬টি চারের সাহায্যে ১৫ বলে করেন ৩০ রান। দলীয় ৫৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

এরপর বাংলাদেশের উপর লঙ্কাকান্ড ঘটিয়েছে লঙ্কান ওপেনার কুশাল মেন্ডিস। ২৫ বলেই তুলে নিয়েছেন তার কাঙ্ক্ষিত অর্ধশতক দলীয় ৯০ রানে আফিফের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েছেন সৌম্য সরকারের হাতে। বিদায়ের আগে ২৭ বল খেলে ৫৩ রান তুলেছেন মেন্ডিস। এরপর দলীয় স্কোরকার্ডে ২ রান যোগ হতেই নাজমুলের বলে ফিরলেন উপুল থারাঙ্গা। ব্যক্তিগত ৪ রানে তিনি ধরা পড়েছেন আফিফের হাতেই। ইনিংসের ১২তম ওভারে রুবেলের প্রথম শিকারে ফেরেন ৯ বলে ১১ রান করা নিরোশান ডিকভেলা। দলীয় ১২৯ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

এরপর এরপর জুটি গড় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন থিসারা পেরেরা এবং দাসুন সানাকা। পেরেরা ১৮ বলে ৪টি চার আর ৩টি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩৯ রান। আর দাসুন সানাকা ২৪ বলে ৩টি চার আর ৩টি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৪২ রান।

আজকের ম্যাচে কাঁধের ব্যথার কারণে খেলতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরসা তামিম ইকবাল। তার পরিবর্তে খেলানো হয়েছে জাকির হাসানকে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও ইনজুরির কারণে টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি তামিম ইকবালের।

তামিম খেলতে না পারলেও টি-টোয়েন্টির দলে খেলেছে মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ দল আছে মাঠে নেমেছে চার অভিষিক্ত খেলোয়াড়কে নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ছয় উইকেটে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৯৩/৫ (২০ ওভার)

(জাকির হাসান ১০, সৌম্য সরকার ৫১, মুশফিকুর রহিম ৬৬*, আফিফ হোসেন ০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩, সাব্বির রহমান ১, আরিফুল হক ১*; শিহান মাদুশানকা ০/৩৯, দানুশকা গুনাথিলাকা ১/১৬, ইসুরু উদানা ১/৪৫, থিসারা পেরেরা ১/৩৬, আকিলা ধনঞ্জয়া ০/৩২, জীভন মেন্ডিস ২/২১)।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ১৯৪/৪ (১৬.৪ ওভার)

(কুশাল মেন্ডিস ৫৩, দানুশকা গুনাথিলাকা ৩০, উপুল থারাঙ্গা ৪, দাসুন শানাকা ৪২*, নিরোশান ডিকওয়েলা ১১, থিসারা পেরেরা ৩৯*; নাজমুল ইসলাম ২/২৫, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০/৩৩, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২৩, রুবেল হোসেন ১/৫২, মোস্তাফিজুর রহমান ০/৩২, আফিফ হোসেন ১/২৬)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: কুশাল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !