রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহায়তা চেয়েছে ঢাকা

নাগরিক হিসেবে সব অধিকার, দায়িত্ব ও মর্যাদাসহ মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠককালে এ অনুরোধ জানান।
শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা পেতে গত অক্টোবর মাসে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ৭৪ হাজার মানুষ কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়। অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
দুই মন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশে কার্যকর হওয়া বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ আইন-২০১৭ সম্পর্কে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের অবহিত করেন। তারা এই আইনের যৌক্তিকতা ও বাস্তবতা এবং আইন কার্যকর করার পর ইতোমধ্যেই কিভাবে সমাজে এই আইনের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে তা তুলে ধরেন।
দুই মন্ত্রী গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নের উদ্যোগ ও অর্জন সম্পর্কে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের অবহিত করেন।
আনিসুল হক বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের অবহিত করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন গূরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহিত আইন সংশ্লিষ্ট কিছু উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন।
আইনমন্ত্রী প্রস্তাবিত ‘ইপিজেড লেবার ল’ সম্পর্কে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের অবহিত করেন এবং তাদেরকে জানান, খসড়া আইনের ওপর ভিত্তি করে আরও আলোচনা হবে।
এর আগে আইনমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে কর্মসংস্থান, সামাজিক বিষয়াবলী, দক্ষতা ও লেবার মোবিলিটি বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ম্যারিয়ান থাইসেন-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ আইন গুরুত্ব পায়।
আইনমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ: ডেভেলপমেন্ট থ্রু কানেকটিভি’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ইউরোপীয়ান ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ইউরোপীয়ান এক্সটার্নাল সার্ভিস (ইউ-এর পররাষ্ট্র বিভাগ)-এর দক্ষিণ এশিয়া শাখার প্রধান ভেরোনিকা কডি, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, থিঙ্ক- ট্যাঙ্ক এবং সুশীল সমাজসহ অন্যরা এ সেমিনারে অংশগ্রহণ করে।