/লন্ডনে বৈশাখি মেলায় অংশ নিচ্ছে না রাধারমণ সোসাইটি

লন্ডনে বৈশাখি মেলায় অংশ নিচ্ছে না রাধারমণ সোসাইটি

নানা রকম অস্বচ্ছতা ও অসঙ্গতির অভিযোগ এনে টাওয়ার হ্যামলেটসের বৈশাখি মেলা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান বাংলা লোক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রাধারমণ সোসাইটি। লন্ডনে স্থানীয় সরকার টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় আগামী ১ জুলাই উইভার্স ফিল্ডে আয়োজন করা হয়েছে ইউরোপের সর্ববৃহৎ এই বাঙালি আয়োজন। এবারের আয়োজনে চল্লিশ হাজারেরও বেশি দর্শক সমাগম হতে পারে বলে আয়োজকদের ধারণা। রাধারমণ সোসাইটি  কাউন্সিল স্টাফদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেলায় পরিবেশনা থেকে বিরত থাকবে বলে ঘোষণা দেয়।

রাধারমণ সোসাইটির অন্যতম বোর্ড মেম্বার অমল পোদ্দার জানান, এটা দুঃখজনক যে কাউন্সিলের আর্ট ডেভেলপমেন্ট টিম শিল্পীদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক আচরণ তো দূরের কথা, বাঙালির এমন বিশাল আয়োজনে নিজেদের ইচ্ছেমত শিল্পী নির্বাচন করছে। ফলে কাউন্সিলের ভেতর ও বাইরে যেসব শিল্প সঙ্গীতের অর্থবহ চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের পক্ষে কোনো প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হয় না। ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়েই এতো বিশাল জমায়েতের জন্যে একটি চমৎকার আদ্যোপান্ত বিনোদনমুখর মেলা উপহার দেয়া যেত। তাতে স্থানীয় শিল্পীরাও তাদের নিজেদের দর্শক নির্মাণের সুযোগও পেতেন। বাংলাদেশ থেকে অনেক শিল্পী বা ব্যান্ড নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়; যাদের জনপ্রিয়তা লন্ডনের শিল্পীদের চেযে অনেক কম।  এমন অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, তাদেরকে পরে আর বিবেচনা করা হবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়।

অমল পোদ্দার বলেন, আসলে এমন চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করার নানা রকম অভিসন্ধি চলছে। একদিকে আছে মৌলবাদীরা, যারা মেলার বিরুদ্ধে নানা  অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে এর আগে প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক দুর্নীতি জনমনে মেলা সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। আর বর্তমানে শিল্প সঙ্গীত নিয়ে কোনো রকম ধারণা নেই, এমন সব কাউন্সিল কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও গৎবাঁধা প্রোগ্রামিং ক্রমে  জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে এবং দর্শক সমাগম  কমছে প্রতি বছর।

অমল পোদ্দার আরো জানান, আমরা স্লটিং কিভাবে করা হয়েছে, কোনো নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি-না জানতে চেয়েছিলাম। তাতে এমনকি কাউন্সিলের আর্ট ও হেরিটেজ টিমের প্রধান স্টিফেন মারে রীতিমত নজিরবিহীন রূঢ়  উত্তর দেন।  যেহেতু শিল্পী নির্বাচনে কোনো রকম গণতান্ত্রিক প্রস্তাব আহ্বান করা হয়নি, আমাদের ঘোরতর সন্দেহ ছিল যে, এর প্রোগ্রাম পরিকল্পনায়ও কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। রাধারমণ সোসাইটির মত একটা সংগঠন যা গত নয় বছর ধরে কাজ করছে অন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে, তৈরি করেছে হাজার হাজার বাঙালি ও অবাঙালি দর্শক। নিজেদের ব্র্যান্ডিংয়ের কারণেই আমরা এরকম অস্বচ্ছ প্লাটফর্মে অংশ নিতে পারি না। আমরা জানি আমাদের দর্শকেরা এই সিদ্ধান্তে ব্যথিত হবেন, কিন্ত এরকম স্বেচ্ছাচারি কর্মকর্তাদের অগণতান্ত্রিক ও রূঢ় আচরণের বিরুদ্ধে মেলায় অংশ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। অমল পোদ্দার এ নিয়ে মেয়র জন বিগসের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, কাউন্সিলের যোগাযোগ কর্মকর্তা রিচার্ড হার্লির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাধারমণ সোসাইটির অভিযোগ সত্য নয়। মেলা ব্যবস্থাপনায় আর্ট টিমের রয়েছে দীর্ঘ পচিশ বছরের অভিজ্ঞতা। মেলায় আসা দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে উপভোগ্য করে তোলার নিরিখেই প্রোগ্রাম পরিকল্পনা হয়ে থাকে। তবে তিনি শিল্পী নির্বাচনে অগণতান্ত্রিক নীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !