শীতে ত্বকের যত্ন

শীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের ত্বকে পড়ে। যার কারণে শীতের শুরুতে বা প্রচণ্ড শীতে শুষ্ক ত্বক, মুখে চামড়া ওঠা, ত্বকে কালচে ভাব, ঠোঁট ফাটা, পায়ের গোড়ালী ফাটাসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। শীতে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। তাই এই সময় ত্বকে অয়েল বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

শীতে শরীরের অন্যান্য অংশ ঢাকা থাকলেও শীতের হাওয়ার সংস্পর্শে বেশি আসে আমাদের মুখ। তাই মুখ হাল্কা ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ভারী ময়েশ্চারাইজারযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও ব্রণের সমস্যা আছে তাদের মেডিকেটেড ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে ত্বকের উপযোগী ৩০ থেকে ৫০ এসপিএফ যুক্ত সানব্লক।

শীতের আরও একটি প্রধান সমস্যা ঠোঁট ফাটা। নরম টুথ ব্রাশ দিয়ে ঠোঁট ঘষে পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন ব্যবহার করতে হবে। সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের চাকিকাঠি হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। শীতে ঠাণ্ডার ভয়ে অনেকেই গোসল এড়িয়ে চলেন বা অসহনীয় গরম পানি দিয়ে অনেকক্ষণ গোসল করেন। এ দুইটি অভ্যাসই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। শীতের সময় কম বেশি সবারই পায়ের গোড়ালি ফাটে। তাই এ সময় পায়ে নিয়মিত গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।

শরীরের বাহ্যিক আর্দ্রতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। সঙ্গে প্রতি দিনের খাদ্য তালিকা করতে হবে প্রচুর মৌসুমি শাক-সবজি ও রঙিন ফল সমৃদ্ধ। এছাড়াও ভিটামিন ই, বায়োটিন, ভিটামিন সি, প্যানটোথেনিক এসিড, ওমেগা থ্রি, ইভেনিং প্রিমরোজ ওয়েল ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই চিকিৎসক পরামর্শ অনুযায়ী আপনার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টটি গ্রহণ করুন।

লেখক: লেজার ও এসথেটিক বিশেষজ্ঞ