/শেখ হাসিনার কাছে তৃণমূলের নেতাদের যত অভিযোগ

শেখ হাসিনার কাছে তৃণমূলের নেতাদের যত অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সামনে দলটির তৃণমূলের নেতারা বলেছেন আওয়ামী লীগের শক্র আওয়ামী লীগই। সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে হলে এখনই বিভেদ দূর করতে হবে। এজন্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার বিশেষ দিকনির্দেশনা চেয়েছেন তৃণমূল নেতারা।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের তৃণমূলের বিশেষ বর্ধিত সভায় গ্রামের নেতারা উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের সব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, মহানগরের অন্তর্গত কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। এই বিশেষ বর্ধিত সভায় দলসমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরাও উপস্থিতি ছিলেন।

শেখ হাসিনার অনুমতি পেয়ে সভায় বক্তব্য প্রদানের সুযোগ পান- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহেরাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খো কো মারমা, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সুনামগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত তালুকদার, পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্ল্যাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মল্ডল, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির আলী, বরিশাল মহানগরের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন, ঝালকাঠির কৃত্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সঙ্কর মুখ্যাজি প্রমুখ।

উপস্থিত তৃণমূল নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার  কাছে ওয়াদা করেন। দলের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করার কথা বলেন নেতারা।

এ সময় ঝালকাঠির কৃত্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শঙ্কর মুখার্জি বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। হাঁস-মুরগী লালন-পালন করি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলে আমাকে এখানে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। এ সুযোগ অন্য কেউ দিতো না। সবাই উন্নয়নের কথা বলেন,উন্নয়ন দেখতে হলে আমাদের গ্রামে আসেন। আমাদের গ্রামে কোনও ছনের ঘর নেই।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের সেই ভয়াবহতা যারা দেখেননি,তারা বুঝবেন না জামায়াত-বিএনপি কী জিনিস। তাই আপনাদের বলবো,কোনও অবস্থায় যেন সেই জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় না আসতে পারে। এজন্য আমাদের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। নৌকার পক্ষে সবাইকে ঐক্য থাকতে হবে। সুনামগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত তালুকদার বলেন আমরা গ্রাম থেকে এসেছি। আমাদের কোনও কথা বলার সুযোগ নেই। নির্বাচন এলেই  আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের শত্রু হয়ে যায়। এ থেকে মুক্ত হতে হবে।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমির আলী গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিয়ে সেটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলেও আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী চান তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মহাজোটের সুযোগে জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্যকে টাকা না দিলে কোনো নিয়োগ হয় না। আগামী নির্বাচনে  সিলেটের ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্ল্যাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল বলেন, আমরা নৌকার প্রার্থীর হয়ে একাট্টা হয়ে লড়াই করবো। নৌকার জয়ের জন্য কাজ করে যাব।

বরিশাল  মহানগরের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন বলেন, আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি নির্বাচনে আপনাকে বরিশাল থেকে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র নির্বাচিত করে আপনাকে উপহার দেব।

সভায় যে কয়জন তৃণমূল নেতা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন প্রায় সকলেই তাদের দেওয়া বক্তব্যে নিজ নিজ এলাকার কোন কোন অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। তৃণমূলের রাজনৈতিক বিরোধই তাদের বক্তব্যে প্রধান্য পেয়েছে।

এর আগে সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের ঐক্য বজায় রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, এক হয়ে লড়াই করলে কোনো দল আমাদের হারাতে পারবে না।

মাঠের নেতাদের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি  শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের আগে দলের ভেতর সব বিরোধ মিটিয়ে ফেলা আর যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করার নির্দেশ দেন।

এদিকে আগামী ৭ জুলাই গণভবনে আরও চারটি বিভাগের তৃণমূলের নেতাদের দ্বিতীয় পর্বের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে গণভবনে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !