আজকের দিন-তারিখ
  • বৃহস্পতিবার ( সকাল ৭:৩৩ )
  • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
  • ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ রোগীর মৃত্যু

0

ঈদের আগে ও পরের ৩দিনে নগরীর শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ শিশুসহ ৪০জন রোগী মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে ২৪ জন মারা গেছে ঈদের দিন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ৩দিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৬৩ জন রোগী।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগের দিন শুক্রবার মারা গেছেন ৮ জন রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চলে গেছেন ৩২ জন। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয় স্বেছায় হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৯ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয় বাড়ি ফিরেছেন ১৩৯ জন। ওইদিন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৬১ জন। মোট রোগী ছিলো ১ হাজার ৩০ জন।
ঈদের দিন শনিবার রেকর্ড সংখ্যক ৯ শিশুসহ ২৪ জন রোগী মারা গেছে। অন্য হাসপাতালে ও ক্লিনিকে চলে গেছেন ১৩ জন রোগী। নিজের ইচ্ছায় হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৩ জন। ওইদিন নতুন ভর্তি হয়েছে ২০৭জন। ঈদের পরের দিন রবিবার মারা গেছে ৮ জন রোগী। উন্নত চিকিৎসার আশায় অন্যত্র চলে গেছেন ১৬ জন।

তবে কঠোর নজরদারির কারণে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তেমন কোন সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেছেন শেবাচিমের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ জন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীসহ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ও ইনডোর মেডিকেল অফিসারসহ মোট ১৩০ জন। মুসলিমদের মধ্যে ঈদের ছুটি নিয়েছেন মাত্র ১০জন। এমনকি জরুরি বিভাগ ১০ জন চিকিৎসকের স্থলে ৩ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। ২৫ জন হিন্দুসহ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা ১৭০ জন। এদের মধ্যে বরিশালে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন অতিরিক্ত ৩০জন। ঈদের ৩ দিন অর্ধেকের বেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মস্থলে ছিলনা।

নার্সদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। ২৪৫ জন হিন্দু, ২৯ জন খ্রিস্টান এবং মুসলিম ৪৫১ জনসহ হাসপাতালের মোট নার্সের সংখ্যা ৭৩৫ জন। এদের মধ্যে অমুসলিম নার্সরাই ছিলে ঈদের আগে ও পরের ৩ দিন হাসপাতালের ভরসা। সবচেয় ভয়াবহ সংকট ছিলে আয়া, ঝাড়ুদারসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের। এমনিতেই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা চরম সংকটে। এর মধ্যে আবার অসুস্থতাসহ নানা কারণে কাজে আসেননি কর্মচারীদের একটি অংশ।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর চরম সংকটের কথা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ঈদের বন্ধে হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স কর্মরত ছিল। আমি নিজে প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে নজরদারি করেছি।’

ঈদের দিন ২৪ জন রোগীর মত্যুর বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘একদিন ২৪ জন রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন। যারা মারা গেছে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বিশেষ করে কম ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণের পর শিশু মৃত্যুর বিষয়টি স্বাভাবিক। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যাজমা, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

Share.

Comments are closed.