সরকার মিয়ানমার সীমান্তে কাটা তারের বেড়াসহ সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকার মিয়ানমার সীমান্তে কাটা তারের বেড়াসহ সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে মাদকদ্রব্য আসতে না পারে সেজন্য বিজিবিসহ বাংলাদেশে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২৬ জুন ২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান বক্তব্য রাখেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ বক্তব্য রাখেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত শুধু টেকনাফ বা নাফ নদীই নয়। এর বাইরেও অনেক সীমান্ত দিয়ে নানাভাবে পাচার হয়ে ইয়াবা আসছে।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সীমান্তে ইয়াবার কারখানা রয়েছে। সীমান্তের ওপারের ইয়াবা কারখানার তালিকা আমরা মিয়ানমারকে দিয়েছি। তারা এসব কারখানা বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করেননি বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এই ইয়াবা পাচার বন্ধে আমি নিজে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সে দেশের প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। চুক্তিও করেছি। তারা এখনো কোনও কাজই করেনি।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের সাথে আমাদের মাদকপাচার বন্ধে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তারাও আমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ইয়াবা বহনকারী শনাক্তে বান্দরবান ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) সংখ্যা বাড়িয়েছি। এছাড়া পুটখালীতে পরীক্ষামূলক ডিভাইস বসিয়েছি। সেই ডিভাইস ভালো কাজ করছে। যেসব সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসছে, সেখানে এই ডিভাইস বসানো হবে। ইতোমধ্যে নাফ নদীতে কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে। এই মাদক সরবরাহ বন্ধে আমরা নোডাল এজেন্সিকে শক্তিশালী করছি। বিজিবিকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়াও যারা এ ব্যবসায় অর্থ, আশ্রয় ও বাড়ি ভাড়া দিয়ে সহযোগিতা করছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যত শক্তিশালী হোক না কেন কাঊকে ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, অভিযানের পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের সাজাও দেয়া হচ্ছে।
সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও পাচার বন্ধে সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে প্রস্তাবিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধীদের বিচারের জন্য পৃথক আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যত শক্তিশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। জঙ্গিদের যেভাবে নির্মূল করা হয়েছে, সেইভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করা হবে। শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের নয়, তাদেরকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদেরকে ধরা হবে। তাদের তালিকা তৈরির জন্য গোয়েন্দারা কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।