আজকের দিন-তারিখ
  • বৃহস্পতিবার ( সকাল ৬:২৭ )
  • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
  • ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

সেনাবাহিনীকে পুলিশ সাজাতে চায় বিএনপি: হাছান

0

বিএনপি সেনাবাহিনীকে দিয়ে পুলিশের কাজ করাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যেমন সেনাবাহিনীকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে অনেকাংশে বিতর্কিত হয়েছেন, খালেদা জিয়াও একই কাজ করেছেন।’

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাছান বলেন, ‘যারা জনগণকে পেট্রোল বোমা মেরেছে, জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং বায়তুল মোকাররমের সামনে কুরআন শরিফে আগুন দিয়েছে তাদের সঙ্গে আগামী নির্বাচনেও যে জনগণ থাকবে না সেটি বেগম খালেদা জিয়া ভালো করে জানেন। তাই তিনি ষড়যন্ত্র করছেন, লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাচনে গেছেন।’

তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে কিছু দিন আগে সুশীল সমাজের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছেন। কিন্তু সুশীল সমাজ বলতে যারা সংলাপে বসেছেন শুধু তাদেরকে বোঝায় না। বাংলাদেশে সুশীল সমাজ আরও অনেক বড়। সুতরাং তাদের বক্তব্য বাংলাদেশের পুরো সুশীল সমাজের বক্তব্য হতে পারে না। সুশীল সমাজ বলতে হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী এবং আরও অনেক লেখককে বোঝায়। এসব লোকের বক্তব্য আর যারা কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসেছেন তাদের বক্তব্য এক নয়।’

আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, ‘সুশীল সমাজের কয়েকজনের বক্তব্যের পর বিএনপি উল্লাস করে বলেছেন, ‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী প্রয়োজন’। কারণ বিএনপি সব সময় সেনাবাহিনীকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এখনও সেনাবাহিনী দিয়ে পুলিশের কাজ করাতে চাইছে বিএনপি।’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। তারা অবশ্যই বিতর্কের ঊর্ধ্বে। আমাদের সেনাবাহিনী আজকে দেশের, রাষ্ট্রের এবং জাতির জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসছে। আমরা সেই সেনাবাহিনীকে কোনও বিতর্কিত ভূমিকায় নিয়োজিত করতে পারি না। তাই আমাদের পক্ষ থেকে যেটি বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী অবশ্যই স্ট্রাইকিং ভূমিকায় থাকতে পারে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে তো পুলিশের কাজে লাগানো সঠিক নয়।’

বেগম জিয়ার উদ্দেশ্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, আপনি জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এই ষড়যন্ত্রের পথ দ্রুত পরিহার করুন।’

তিনি খালেদা জিয়াকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আগস্ট মাস আসলে আপনার কেক কাটার ধুম পড়ে। এবার দয়া করে লন্ডনেও কেক কাটবেন না। লন্ডনে কেক কাটলে দেশে ফেরার পর জনগণ আপনাকে উচিৎ জবাব দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে বেগম খালেদা জিয়াও দেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। আমরা যখন বললাম, বেগম জিয়া লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন, আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন- তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বললেন, বেগম খালেদা জিয়া আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে মিটিং করেনি। অর্থাৎ তার বক্তব্য হচ্ছে, ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না।’

আওয়ামী লীগের এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘বেগম জিয়া কখন, কোথায় কার সঙ্গে মিটিং করেন, কী করছেন, কয়টায় কোন হোটেলে মিটিং করছেন এবং মিটিং শেষে কয়টায় তিনি ছেলের বাসায় ফেরত যাচ্ছেন সেইসব তথ্য আমাদের কাছে আছে। প্রয়োজনে সেই তথ্য উন্মোচন করা হবে।’

বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রের কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান হাছান।

লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share.

Comments are closed.