/হলি আর্টিজান হামলার এক বছর মানবতার শত্রুদের সম্পর্কে সতর্কতা কাম্য

হলি আর্টিজান হামলার এক বছর মানবতার শত্রুদের সম্পর্কে সতর্কতা কাম্য

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল ১ জুলাই। এক বছর আগে এদিনে মাহে রমজানে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন তারাবির নামাজ আদায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে জঙ্গি হামলার শিকার হয় গুলশানের এই অভিজাত রেস্তোরাঁটি। বিবেক বর্জিত জঙ্গিরা সংযমের মাস মাহে রমজানকে উন্মত্ততা প্রকাশের মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নেয়। তাদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দেশি-বিদেশি ২২ জন নাগরিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলাদেশের পরিচিতির অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলা সে ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপনের অপচেষ্টা চালায়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই যেন কাঁটা বিছিয়ে দেয় এ ঘটনা। বাংলাদেশকে দুর্বল ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতিভূদের মদদে যে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে তা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ হত্যাকাণ্ডের টার্গেট ছিল মূলত সেইসব বিদেশি যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে এ দেশে এসেছিলেন। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের ৯ জন ছিলেন ইতালীয়। যাদের প্রায় সবাই পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইউরোপীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য হয়তো জড়িত ছিল এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অকপট বন্ধু জাপানের ছয় নাগরিকও এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ মেট্রোরেলের উপদেষ্টা হিসেবে তারা এসেছিলেন বাংলাদেশে। লাল সবুজ পতাকার দেশকে স্তব্ধ করতে এক বছর আগে যে হামলা চলেছিল, জঙ্গিবাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বাংলাদেশকে বেঁধে ফেলার সে চক্রান্ত অবশ্য সফল করতে দেয়নি বাংলাদেশের মানুষ। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্যও দুনিয়ার যে কোনো দেশের জন্য ঈর্ষণীয়। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বিকৃত রুচির ধর্মান্ধদের ষড়যন্ত্র নস্যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এগিয়ে এসেছে উদারভাবে। দেশবাসীর প্রতিরোধে জঙ্গিবাদের নখর অনেকটাই ছিন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ সাফল্যে আত্মপ্রসাদ নয় দেশ ও জাতির শত্রুদের সম্পর্কে আমাদের সদাসতর্ক থাকতে হবে। হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার শিকার দেশি-বিদেশি শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন !