২১ আগস্ট হামলায় অস্ত্র দিয়েছিল যে দেশ

বাংলাদেশে স্মরণকালের ইতিহাসে নৃশংসতম জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে। ওইদিন সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নিজেই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীর চালানো ওই হামলা পুরোপুরি সফল হলে আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রায় সব নেতার মৃত্যু হত সেদিন।

হামলায় যে গ্রেনেডগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল সেগুলো কোথা থেকে, কীভাবে এসেছিল এসব বিষয়ের তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, সেদিনের গ্রেনেডগুলো এসেছিল পাকিস্তান থেকে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের জঙ্গিদের জন্য অস্ত্র পাঠাতো ভারত। সেই অস্ত্রেরই একটি অংশ ২১ আগস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি হান্নান, কাশ্মিরের হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা ইউসুফ ওরেফ মাজেদ বাটসহ অনেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

হুজি নেতা মুফতি হান্নান ও মাজেদ বাটসহ অন্যান্য জঙ্গির জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, কাশ্মিরি জঙ্গিদের জন্য পাকিস্তান থেকে আসা আর্জেস গ্রেনেডের একটা অংশ ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর হামলাসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপি সরকার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার একটা অংশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পেয়েছে তারা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের তৎকালীন কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

জঙ্গিনেতা মাজেদ ভাট তার জবানবন্দীতে জানায়, ‘২০০৪ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে একদিন মাওলানা তাজউদ্দিন আমাকে জোহরের নামাজের সময় মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদে থাকতে বলেন। আমি জোহরের নামাজের সময় সাত মসজিদে গিয়ে মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা আব্দুস সালাম ও মুফতি হান্নানকে পাই। আমরা সেখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে মসজিদের ভেতর বসি। তখন মাওলানা তাজউদ্দিন বলে, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ ও ভারতে সংগঠনের কার্যক্রম চালানো সমস্যা হয়। যদি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায়, তাহলে আওয়ামী লীগ টুকরা টুকরা হয়ে যাবে এবং তারা আর পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতে কার্যক্রম চালাতে সুবিধা হবে। কাজেই শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলতে হবে।’ মাওলানা আব্দুস সালাম জানতে চান,এই কাজ কীভাবে করা যাবে। তখন তাজউদ্দিন বলে, ‘তার কাছে যে গ্রেনেড আছে, সেই গ্রেনেড দিয়ে এই কাজ করা যাবে।’

এভাবেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তান থেকে আসা অস্ত্র ও গোলা বারুদ দিয়ে ২১ আগস্ট হামলা চালানো হয়। হামলার ধরন ও লক্ষ্যস্থল থেকে এটা স্পষ্ট যে শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল ওই গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণের মূল উদ্দেশ্য। ঘটনার সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন। রাষ্ট্রনায়ক বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নৃশংস ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী  আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap