৩১২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

ঢাকা টেস্টে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। প্রথমদিন ৪ উইকেট হারিয়ে চাপের মুখেই দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল টাইগাররা। লক্ষ্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানো। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা উল্টো বড় বিপদে স্বাগতিকরা। মাত্র ৩ রান তুলতেই শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে লাল-সবুজরা। ১১০ রানে শেষ হয়েছে প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় দিন শেষে ঢাকা টেস্টের নিয়ন্ত্রণ তাই এখন শ্রীলঙ্কার হাতে। ২ উইকেট হাতে রেখে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে আছে ৩১২ রানে। সামনে আছে আরও তিনটি দিন। তাই চতুর্থ ইনিংসে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে।

এর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৬৬ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিংয়ে নেমেছিল টাইগাররা। লক্ষ্য ছিল, আগের দিনের ব্যর্থতা ভুলে নতুন উদ্যমে শুরু করা। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ে এক সেশনও পুরোটা খেলতে পারলো না বাংলাদেশ। সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ১১০ রান। মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম দিনে ৪ উইকেট খুইয়ে দ্বিতীয় দিনে আত্নবিশ্বাসী শুরু করেছিল লিটন-মিরাজ। কিন্তু দলীয় ৭৩ রানে পেসার সুরঙ্গা লাকমালের বলে ব্যাটে লেগে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ৫৪ বলে ৩টি চারে লিটন করেছেন ২৫ রান।

আকিলা ধনঞ্জয়ার ১ ওভারেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরকে হারানোর পর দলীয় স্কোরে ২ রান যোগ হতেই ফিরলেন আব্দুর রাজ্জাক। এরপর ফিরে যান তাইজুল। দলের রানের সাথে ১ রান যোগ করে আউট হন তিনি। শেষ উইকেটে কোনো রান যোগ না করে পেরেরার বলে এলবিতে আউট হন মোস্তাফিজ।

এরপর প্রথম ইনিংসে ২২২ রান করা শ্রীলঙ্কা ১১২ রানের লিড নিয়ে খেলেছে দ্বিতীয় ইনিংস।

ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৯ রানেই লঙ্কান ওপেনার কুশাল মেন্ডিসকে ফেরালেন আব্দুর রাজ্জাক। ইনিংসের সপ্তম ওভারে রাজ্জাকের ঘূর্ণি বল আঘাত হানে কুশাল মেন্ডিসের প্যাডে। এতে এলবিডব্লিউ হয়ে ব্যক্তিগত ৭ রানেই ফিরতে হয়েছে এই ওপেনারকে।

কুশাল মেন্ডিসের বিদায়ের পর সিলভা-করুণারত্নের জুটিতে ভালোই এগুচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ইনিংসের ১৭ তম ওভারে ডি সিলভাকে ফিরিয়ে ৩৪ রানের জুটি ভাঙলেন তাইজুল।

বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও নাম লিখেছেন উইকেট নেয়ার খাতায়। দলীয় ৮০ রানে তিনি সাজঘরে পাঠিয়েছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান দানুশকা গুনাথিলাকাকে। দলীয় ৯২ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ হন ওপেনার দিমুথ করুণারত্নে। তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।

দ্বিতীয়বারের মতো লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসের ৪৭তম ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরলেন দিনেশ চান্দিমাল। বিদায়ের আগে তার ঝুলিতে পুরেছেন ৩০ রান।

মিরাজের পর তাইজুলের হাত ধরে আবারও সাফল্যের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ইনিংসের ৫৪তম ওভারে দলীয় ১৭০ রানে ডিকভেলাকে মাহমুদুল্লাহ ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান তাইজুল। ডিকভেলা করেন ১০ রান।

এরপর ইনিংসের ৫৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে জোড়া আঘাত হানেন পেসার মোস্তাফিজ। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে দিলরুয়ান পেরেরাকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান মোস্তাফিজ। পেরেরা করেন ৭ রান। পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান আকিলা ধনঞ্জয়াও উইকেটের পেছন লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। তিনি কোনো রান করতে পারেননি।

লাকমলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২২ রানে জুটি গড়ার পথে রোশেন টানা দ্বিতীয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করেন ৮৬ বলে ৭টি চারে। ৯৪ বলে ৯টি চারে ৫৮ রানে অপরাজিত তিনি। লাকমল খেলছেন ৭ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুক্রবার সকালটা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এক সেশনও পুরোটা খেলতে পারেনি তারা, শেষ ৫ উইকেট গেলো মাত্র ৩ রানে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে অলআউট হলো ১১০ রানে। প্রথম ইনিংসে ২২২ রান করা শ্রীলঙ্কার চেয়ে তারা পিছিয়ে ছিল ১১২ রানের।

বাংলাদেশ একাদশঃ

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, আবদুর রাজ্জাক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশঃ

দিমুথ করুনারত্নে, দানুশকা গুনাতিলাকা, কুশল মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, রোশেন সিলভা, দীনেশ চান্ডিমাল, নিরোশান ডিকভেলা, দিলরুয়ান পেরেরা, আকিলা দনঞ্জয়া, রঙ্গনা হেরাথ, সুরঙ্গা লাকমল।