রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু। এ সময় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন তিনি। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।…

মিরপুরে ‘জঙ্গিবিরোধী’ অভিযান

রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম থানার একটি বাড়িতে জঙ্গিআস্তানা সন্দেহে অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব। সোমবার (০৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দক্ষিণে অবস্থিত বর্ধমান…

উ. কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষায় উদ্বিগ্ন ঢাকা

উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পারমাণবিক পরীক্ষায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করে উত্তর কোরিয়া গতকাল রোববার ষষ্ঠবারের মতো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এতে…

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অনেকাংশে সফল ঢাকা সিটি

ঘোষিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে কোরবানির বেশির ভাগ বর্জ্য অপসারণ করেছে সিটি করপোরেশন। আজকের মধ্যেই বাকি বর্জ্য অপসারিত হয়ে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারিত হওয়ায় সন্তুষ্ট রাজধানীবাসী। দুই সিটি করপোরেশনে…

শেখ হাসিনাকে খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড আওয়ামী লীগের ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া…

সাত দিকে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে

জাতিসংঘের হিসেবে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গত ৮ দিনে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বা ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা ভিভিয়ান ট্যান বলেছেন, যে ভাবে লোক আসছে…

ঈদের দিনেও ডিউটি, মুখের হাসিতে অপূর্ণতা

বছরে একটি কিংবা দুটি দিনই তো। বিশেষ এই দিনগুলোতে ধনী-নির্ধন, কর্মজীবী-বেকার সবাই আনন্দের মিলিলে শরিক হতে চায়। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হচ্ছে ঈদুল আজহা। এ দিনে সবাই বাহারি খাবার, নতুন পোশাক আর ঘুরাঘুরিতে মশগুল।…

কাল ঈদুল আজহা

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ইসলামী দিবসসমূহের মধ্যে এ দিনেরতাৎপর্য অপরিসীম। আরবি ‘কোরবান’ থেকে কোরবানি শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ ত্যাগের মাধ্যমেনৈকট্যলাভ। এদিনে পশু কোরবানির মাধ্যমে বান্দা আত্মত্যাগের নজির পেশ করে আল্লাহরনৈকট্য লাভে ব্রতী হয়। ঈদের খুশীতে মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে দ্বীনি ভাবধারা বইয়ে চলে। ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির গভীর বন্ধনে শান্তির সুবাতাস নেমে আসে। ঈদের জমায়েতেপারস্পরিক সালাম, কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ে অকৃত্রিম আত্মীয়তা জমে উঠে। কোরবানিরগোস্তের সুষম বণ্টন ও চামড়ার টাকা হাদিয়া পাওয়ার মাধ্যমে সমাজের দীনহীন অনাথ এতিম ওহতাশ শ্রেণী একদিনের জন্য হলেও নিজেদের অধিকার ফিরে পায়। সবাই সাম্যবাদের মর্মকথাহরহামেশা উচ্চারণ করলেও ঈদুল আজহা বা কোরবানির দিন তার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠে।কোরআন হাদীসের অসংখ্য জায়গায় কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোকপাত করাহয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল কুরআনের সবচে’ ছোট সূরা সূরায়ে আল কাওছারেফরমায়েছেন ‘অতএব তুমি তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কোরবানি কর।’ কোরবানিমনের ঐকান্তিক আগ্রহ ছাড়া কবুল হয় না। নিবেদিত প্রাণ, গভীর আন্তরিকতা ও ইসলামীশরীয়তের প্রতি অগাধ আস্থা সহকাওে কোরবানি পেশ করতে হবে। পৃথিবীতে ধর্মকর্মের ইতিহাস যত প্রাচীন কোরবানির ইতিহাসও তেমনি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।মানব জাতির জন্য আল্লাহ পাকের তরফ প্রদত্ত সকল শরীয়তে কোরবানির হুকুম বিদ্যমান ছিল।সকল উম্মতের এ ছিল ইবাদতের এক অপরিহার্য অংশ। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আর আমিপ্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির এক রীতিনীতি নির্ধারণ করেছি যেন তারা ঐ সব পশুর ওপরআল্লাহ পাকের নাম নিতে পারে যেসব তিনি তাদেরকে দান করেছেন’ ( সূরা হজ্জ –৩৪)। কোরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, আদি পিতা হযরত আদম (আ.) এর সন্তানহাবিল ও কাবিল প্রথম কোরবানি করেন। তখনকার সময় প্রতি গর্ভ থেকে একটি পুত্র ও একটিকন্যাসন্তান যমজ হিসেবে জন্মগ্রহণ করতো এবং তারা পরস্পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারতোনা। দেখা গেছে, হাবিলের সহোদর হিসেবে যে মেয়েটি ভূমিষ্ট হয় তা কাল ও বিশ্রী। আর কাবিলেরসহোদর বোন খুবই রূপসী ও মায়াবতী। তখনকার শরীয়তের বিধান অনুসারে কাবিলকে হাবিলেরসহজাত বোন আর হাবিলকে কাবিলের সহজাত বোন বিয়ে করতে হবে। এতে কাবিল রাজী নাহওয়ায় বিবাদের সৃষ্টি হয়। অতঃপর উভয়ের পিতা হযরত আদম (আ.) হাবিল ও কাবিলের মতভেদদূর করার জন্য বললেন, ‘তোমরা উভয়ে সামর্থানুযায়ী আল্লাহ তা’য়ালার উদ্দেশ্যে কোরবানি পেশকর, যার কোরবানি কবুল হবে সে কাবিলের সহজাত বোন রূপ–লাবণ্যে অনন্যা আকলিমাকে বিয়েকরতে পারবে’। এ ঘটনার সত্যায়নে আল্লাহ পাক আল কুরআনে ইরশাদ ফরমায়েছেন, ‘আরতাদেরকে আদমের দুই পুত্রের ঘটনা শুনিয়ে দাও, যখন তারা দুই জনেই কোরবানি করলো, তখনতাদের একজনের কোরবানি কবুল হলো অপরজনের কোরবানি কবুল হলো না (সূরা মায়েদা – ২৭)। আল কুরআনে হযরত ইবরাহীম (আ.)কে মুসলিম মিল্লাতের পিতা হিসেবে ভূষিত করা হয়েছে আরকোরবানি তারই অন্যতম সুন্নত, আদর্শ। বর্তমানে আমাদের সমাজে যে কোরবানি প্রথা চালু আছেতার সাথে যে ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত রয়েছে তা আল কোরআনের সূরা আস্ সাফ্ফাতের ১০২–১১২ আয়াতে কারীমায় সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে, “যখন সে (ইসমাঈল আ.) তার সাথেচলাফেরার বয়সে পৌঁছলো তখন একদিন ইব্রাহীম (আ.) তাকে বললো : প্রিয় বৎস আমি স্বপ্নেদেখেছি যে, তোমাকে যেন জবেহ করছি। বল দেখি কি করা যায় ? পুত্র বিনা দ্বিধায় বললো, আব্বা, আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা শীঘ্রই পালন করুন। ইনশাল্লাহ, আপনি আমাকে অবিচলদেখতে পাবেন। অবশেষে পিতাপুত্র উভয়ে আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করলেন এবংইবরাহীম (আ.) পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন (জবেহ করার জন্য )তখন আমরা তাকে আহ্বানকরে বললাম, ইবরাহীম তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। আমরা সৎকর্মশীলদের এরূপপ্রতিদানই দিয়ে থাকি। বস্তুত: এ এক সুস্পষ্ট অগ্নিপরীক্ষা। আর আমরা বিরাট কোরবানি ফিদ্য়াস্বরূপ দিয়ে তাকে (ইসমাঈল আ.) উদ্ধার করেছি। আমরা ভবিষ্যতের উম্মতের জন্য ইবরাহীমের এসুন্নাতকে স্মরণীয় করে রাখলাম। ইবরাহীম (আ.) এর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এভাবেজীবনদানকারীদেরকে আমরা এ ধরনের প্রতিদানই দিয়ে থাকি। নিশ্চিত রূপে সে মুমিন বান্দাদেরমধ্যে শামিল’। তাফসীরে এসেছে, ‘হযরত ইবরাহীম (আ.) তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে জবেহ করতে বারবারচেষ্টা করে ব্যর্থ মনোরথ হলে ছুরি হাত থেকে ফেলে দেয়। এমতাবস্থায় হযরত জিবরাঈল (আ.) ঐশীপ্রত্যাদেশে হযরত ইসমাঈল (আ.) এর বদলে কোরবানির জন্য একটি দুম্বা নিয়ে হাজির হলেন।পিতা ইব্রাহীম সে দুম্বা আল্লাহর রাহে কোরবানি প্রদান করলেন। পরবর্তীতে তারই ধারাবাহিকতায়আল্লাহর আদেশে মুসলিম মিল্লাত এ কোরবানি প্রথা অদ্যাবধি চালু রেখে আসছে। অধুনাকালেকোরবানি নিয়ে অমুসলিমদের পাশাপাশি অনেক মুনাফিকও পশুহত্যার অবান্তর ইস্যু সৃষ্টি করছে।আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘কোরবানী’ শীর্ষক কালজয়ী কবিতায়কোরবানিকে পশু হত্যা নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের শুভ উদ্বোধন হিসেবে অভিহিত করে তারদাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ঐ খুনের খুঁটিতে কল্যাণ–কেতু লক্ষ্য ঐ তোরণ, আজআল্লার নামে জান কোরবানে ঈদের পূত বোধন। ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন। তাই কোরবানিকে আমাদের ধর্মীয় চেতনার উৎস এবং সকল কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে ছুরি চালানোরভিত্তিমূল হিসেবে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের নিয়ামতের শোকরগুজারি করাও আমাদেরদায়িত্ব। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মাঝে ঈমানী অনুভূতি জাগ্রত করে দিন। আমীন।