আম্ফান : পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবার ছুটি বাতিল

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেছেন, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ঝড়টি বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে আছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সমুদ্রবন্দর এলাকাসমূহের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনিদের্শনা দেয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ করছি।

সোমবার (১৮ মে) ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

সোমবার   চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, মোংলা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় যারা ছুটিতে আছেন, তাদের ছুটি বাতিলসহ কর্মস্থলে অবস্থান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন তিনি।

এনামুল হক শামীম বলেন, ঝড়টি বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে। এটি ঘনীভূত হয়ে দেশের খুলনা ও চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আসতে পারে। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের উদ্যোগ নিতে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের জন্য ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল থেকে মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার কাজ শুরু হবে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ এবং চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সোমবার (১৮ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে নিজস্ব সংকেত ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়েছে। এই সতর্কতার পদক্ষেপ হিসেবে বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজগুলো জেটি থেকে সমুদ্রে পাঠানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap