করোনা মোকাবিলায় সমন্বয় জরুরি

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিচ্ছে না। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সংক্রান্ত অনেক বিষয় জানেন না। তিনি নিজেই এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার মন্ত্রী ঘোষণা দেন গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন সংক্রমিত হয়েছেন ২৯ জন, মারা গেছেন ৪ জন। এর দেড় থেকে দু’ঘণ্টা পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্রিফিংয়ে বলা হয় আক্রান্ত ৩৫ মৃত ৩। এ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, সমন্বয়হীন কার্যক্রম ও অস্পষ্ট নির্দেশনা বন্ধ না করলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কমিটির সভাপতি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সচিবদের নিয়ে গঠিত কমিটি এই কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী এই কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে সার্বিক করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা।

কিন্তু, স্বয়ং কমিটির সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সংস্থা, অধিদফতরের তথ্যের গড়মিল এবং কার্যক্রমে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় সমন্বয়হীনতার বিষয়ে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এদিন সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সে এক সভায় ডা. জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তবে করোনা মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ের যে কমিটি গঠন হয়েছে, ওই কমিটির সদস্যভুক্ত সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সব তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাচ্ছে না। এটা চলতে থাকলে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

৫ এপ্রিল গার্মেন্টস খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে ৪ তারিখ থেকে নানা ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৫ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস খোলা থাকার কথা। সে হিসাবে শ্রমিক কর্মচারীরা কষ্ট করে ঢাকা, চট্টগ্রামে ফিরেছেন। কিন্তু সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করে।

করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এর মধ্যে পোশক শিল্পকারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদানের জন্য ঢাকায় যেভাবে এসেছে তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। তারা ঢাকায় আসার পর পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

ফলে তারা আবার ফিরে যায়। এ সময় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা যায়নি। এতে তাদের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরো বেড়েছে। অথচ বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নিলে এত সমস্যা হতো না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পৃথিবীর একটি দেশও করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমাদের দেশে তুলনামূলক ঘাটতি বেশি।

কিন্তু, এটা গোপন করার দরকার নেই; উন্নত দেশগুলোও সেটা করছে না। সব কিছু খোলসা করলে সেখানে সবাই নজর দিতে পারে। এতে সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নইলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap