জুলাই থেকেই গোপনে ভ্যাকসিন দিচ্ছে চীন

জুলাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের শরীরে করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে চীন। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংওয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু চিকিৎসাকর্মী, সীমান্ত এলকায় কর্মরত কর্মী এবং যারা খাদ্যের বাজারে কাজ করেন তাদের ইমিউনিটি বাড়াতে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল।

ঝেং ঝংওয়ে বলেন, গত মাসে করোনার ভ্যাকসিন শুধু জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছিল বেইজিং। এরপর কার্যক্রম শুরু হয় জুলাই মাসের ২২ তারিখ থেকে। তিনি আরো বলেন, শরৎ ও শীতকালে করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কর্মসূচি আনুপাতিক হারে বাড়ানো হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে সারা বিশ্বে কার্যকর এবং নিরাপদ ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ১৭০টি দেশে পৃথক চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কোনো ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়নি সংস্থাটি। ইংল্যান্ডের চিফ মেডিক্যাল অফিসার প্রফেসর ক্রিস হুইটি বলেন, ২০২১ সালের শীতকালের আগে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া সম্ভব নয়।

চলতি বছরের জুলাই থেকে চীন সরকার যে ‘জরুরি’ ভ্যাকসিন ব্যবহার করছে, তা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে। এটি দেশটির প্রথম ভ্যাকসিন বলে জানা গেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে।

ঝেং ঝংওয়ে শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেছেন, করোনা ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহার যাতে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা একাধিক পরিকল্পনা প্যাকেজ, চিকিৎসার সম্মতি ফরম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা, উদ্ধার পরিকল্পনা, ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আগামীদিনে করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কর্মসূচি বাড়ানো হতে পারে।

চীন জরুরি ভিত্তিতে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের দাবি করলেও সারা বিশ্বের অনেক দেশ এটিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। দি অস্ট্রেলিয়ান সাময়িকী এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একদল চীনা নাগরিককে পাপুয়া নিউ গিনিতে ঢুকতে দেননি দেশটির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তারা। সূত্র : নিউজ স্কাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Share via
Copy link
Powered by Social Snap